প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামের এক পাশে কলমীগাড়া বিল। তার চারপাশে ধান খেত। মাঝের বেশ কিছু অংশ জুড়ে পদ্মফুলের সমারোহ। সবুজ পাতার মাঝে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাদা-গোলাপি রঙের একেকটি পদ্ম। শেষ বিকেলে যেন মোহনীয় আবেশ তৈরি হয় বিলে। আর এই সময়ে পদ্মবিল মুগ্ধতা ছড়ায় প্রকৃতি প্রেমীদের মাঝে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সুঁইগ্রামে অবস্থিত কলমীগাড়া বিল। উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা গ্রামের বিলটিতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত -এ দুটি সময়ে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ্য হয়ে ওঠে। পদ্ম ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছে এ বিলের পাড়ে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,গ্রামের শেষ প্রান্তে কলমীগাড়া বিল। একটি বাড়ির মাঝখান দিয়ে বিলের পাড়ে ধান খেতের কিনারে পৌঁছে দেখা গেল ডিঙি নৌকায় মাছ শিকারে ব্যস্ত স্থানীয় কৃষকেরা। চার পাশে ফুটে আছে অনেকগুলো পদ্ম ফুল। কোনোটি আবার অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে। হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখতে শরীরে শিহরণ খেলে যায়। বিলের চারপাশে সবুজ ধানখেত আর মাঝখানে সাদা-গোলাপি রঙের পদ্ম ফুল তৈরি করেছে অন্য রকম সৌন্দর্য। সূর্যাস্তের সঙ্গে পদ্ম ফুলের রং-রূপ তৈরি করে মোহনী আবেশ।
তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যের মাঝে। বিলে যাতায়াতের তেমন ব্যবস্থা নেই। প্রকৃতিগতভাবে বেড়ে ওঠা পদ্ম বিলের মাঝে মাঝে কচুরিপানা ও অন্যান্য আগাছা রয়েছে। যেগুলো পরিকল্পিতভাবে নিরসন করা গেলে সৌন্দর্য আরও উপভোগ্য হবে।
সুঁইগ্রামের বাসিন্দারা বলেন,'কলমীগাড়া বিলে সাধারণত বর্ষা মৌসুমে পদ্মফুল ফোটা শুরু হয়। শরৎকালে বেশিফুল ফোটে। এখানে কেউ পদ্ম ফুলের চাষ করেনা। বছরের পর বছর ধরে প্রাকৃতিকভাবে এই বিলে পদ্ম ফুল ফুটে আসছে। বিলের নিচু এলাকার কিছু জমি চাষাবাদের আওতায় আসায় পদ্মবিলের পরিধি অতীতের চেয়ে এখন অনেক কমে গেছে।'
পদ্মফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানালেন,গ্রাম বাংলায় পদ্মফুল বেশ পরিচিত। খোঁজ পেয়ে দেখতে এসেছি। বিলে পদ্মফুল দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে বিলটিকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো গেলে দর্শনার্থী আরও বাড়বে।'
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন পাঁচ বছর ধরে বছরের ছয় মাস কলমীগাড়া বিলের পদ্মফুল,পদ্মচাক ও পদ্মপাতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা জানান,সকালে বাড়ির পাশের বিল থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মফুল,পদ্মচাক ও পদ্মপাতা তোলেন তিনি। দশটি পদ্মফুলের এক আঁটি ১৫ টাকা, ছয়টি পদ্মচাক ১০ টাকায় এবং প্রতিটি পদ্মপাতা ৬ টাকায় বিক্রি করেন তিনি।