এ ঘটনায় মো. কাজিম উদ্দিন জনি (২৮) নামে এক ব্যক্তি সেনবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানানেও সেনবাগ থানা পুলিশ এধরণের কোন অভিযোগ পাননি বলে জানান।
রোববার (৪ অক্টোবর) সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের আলা উদ্দিন ওরফে হুরি আলা উদ্দিন সহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ রয়েছে।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর রোববার বিকেলে সেনবাগ বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাজিম উদ্দিন জনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারী কাজিম উদ্দিন জনি লুধুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে তিনি নিজেকে কাভারভ্যান চালক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, তার দুটি কাভারভ্যান ছিল। এর মধ্যে একটি ছোট ভাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং অপরটি অন্য একজন চালকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির কারণে বর্তমানে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন। লিখিত অভিযোগে কাজিম উদ্দিন আরো দাবি করেন, বাড়িতে ফেরার পর অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে গাজীরহাট মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। ওই ঘটনায় তিনি প্রায় ২২ দিন কারাগারে ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরার পরও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, একদিন রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে লুধুয়া পশ্চিমপাড়ার বারিক মাওলার বাড়ির সামনে এক ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে কয়েকজন আটক করে মারধর করেন। পরে ওই ব্যক্তিকে দিয়ে জোরপূর্বক তার নাম বলানো হয় এবং তাকে চুরির সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন কাজিম উদ্দিন।
এরপর অভিযুক্তরা ও তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তার বাড়ির সামনের একটি দোকানে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেখানে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাকে মারধর করতে করতে দোকান থেকে বের করে রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে লুধুয়া মধুর পুকুরপাড় এলাকার একটি মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, মাদ্রাসার একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে লোহার রড, কাঠের চেলা, বৈদ্যুতিক ফ্লাস, কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা, রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাজিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে মারধরের পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরদিন তাকে আদালতে চালান করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
জামিনে বাড়িতে ফেরার পর অভিযুক্ত পক্ষের একজনের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান।
বর্তমানে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে নতুন করে ষড়যন্ত্র, হয়রানি কিংবা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন দাবি করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাজিম উদ্দিন।
একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেনবাগ থানার ওসির কাছে আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ হযরত আলী মিলন বলেন,কাজিম উদ্দিন এলাকায় মাদক ও চুরি সহ বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাকে এলাকাবাসী মাদক ব্যবসার ও চুরির অভিযোগে আটক করে পুলিশ সোপার্দ করলে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এরপর সে জামিনে বের হয়ে এসে পুরনো একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুক ছড়িয়ে দিয়ে ও সাংবাদিক সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। ওসি আরো বলেন থানায় কোন অভিযোগ না দিয়ে সে অভিযোগ দিয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।