কলারোয়ার ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী 'কোটা বাড়ি', অলৌকিক বিশ্বাস

এফএনএস (জুলফিকার আলী; কলারোয়া, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
কলারোয়ার ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী 'কোটা বাড়ি', অলৌকিক বিশ্বাস

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘কোটা বাড়ি’ আজ কেবল একটি ভগ্নপ্রায় ইটের স্থাপনা নয়; এটি মানুষের সুগভীর বিশ্বাস, আশা এবং লোকবিশ্বাসের এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন স্থাপনাটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে এক বিশাল প্রাচীন বটগাছ। স্থানীয় জনশ্রুতি আর লোকবিশ্বাসের ডানায় ভর করে এই স্থানটি এখন এক রহস্যময় আধ্যাত্মিক আবহে পরিবেষ্টিত। প্রতি শুক্রবার এই কোটা বাড়ি প্রাঙ্গণে বসে ঐতিহ্যবাহী মানত মেলা। দূরদূরান্ত থেকে শত শত নারী-পুরুষ ছুটে আসেন মনের নানা আকুতি আর বাসনা নিয়ে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই প্রাচীন বটগাছের শিকড় এবং কোটা বাড়ির ভগ্নাবশেষে রয়েছে অলৌকিক কোনো শক্তি।

স্থানীয়দের মুখে প্রচলিত রয়েছে নানা বিস্ময়কর ঘটনা। বটগাছের শিকড়ের মধ্যবর্তী স্থানে গোপনে কোনো রোগ বা মনের কষ্টের কথা লিখে মাদুলিতে ভরে লুকিয়ে রাখলে, অলৌকিক উপায়ে নাকি তা নিরাময় বা সমাধানের পথ দেখায়। এছাড়া রোগ মুক্তির আশায় ভক্তরা এখানে তেল ও পানি নিয়ে আসেন। প্রাচীন দুটি পাথরে চুম্বন দিয়ে সেই পানি ও তেলের সাথে মিশিয়ে পান করেন অনেকে, আবার পবিত্র তেল বাসায়ও নিয়ে যান। শত শত মানুষ বিশ্বাস করেন যে, এখানে এসে মানত করার মাধ্যমেই তাদের জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগব্যাধি সেরে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকেও কলারোয়ার এই কোটা বাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে টিকে থাকা এই প্রাচীন স্থাপনাটি আমাদের অতীত ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী। যদিও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি আজ ধ্বংসের মুখে, তবুও মানুষের মনে এর প্রভাব এতটুকুও কমেনি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি কিংবা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রশাসনের একটু নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ছোঁয়া পেলে এই কোটা বাড়িটি কেবল একটি লোকবিশ্বাসের স্থানই থাকবে না, বরং এটি হতে পারে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র। বিজ্ঞান ও যুক্তির যুগেও মানুষের বিশ্বাস আর অদম্য মনোবল কীভাবে অলৌকিকতার চাদরে ঘেরা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, কলারোয়ার কোটা বাড়ি তারই এক অনন্য জীবন্ত উদাহরণ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে