ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া ও জোরপূর্বক শারীরিকভাবে হেনস্তার ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ২নং পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন(৪৫)ফুলবাড়ীয়া থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার(২০ অক্টোবর) সকাল ১১ টার সময় উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামে কর্মকার বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া একটি বিদেশি টাকার লেনদেন মামলায় কারাগারে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ অনুযায়ী, দুলাল মিয়াকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করার আশ্বাস দিয়ে জাহানারা খাতুনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন হযরত আলী মন্ডল। হযরত আলী জাহানারাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষনের চেষ্টা করে। জাহানারার অভিযোগ, একপর্যায়ে হযরত আলী তাঁকে জোরপূর্বক খাটে ফেলে শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। এ সময় তিনি বাধা দেন ও নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ওই নেতা তাঁকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন জাহানারা। তিনি অতীতে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ বলেন, আমার শাশুড়ির সঙ্গে নেতা হযরত আলী অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছেন। মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গত দুই দিন ধরে আমার শাশুড়ি বাড়িতে নেই, তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন । আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিচার চাই। জাহানারা খাতুনের মা খাদিজা বলেন,আমার মেয়ের সঙ্গে হযরত আলী জোরপূর্বক অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি। এদিকে পুটিজানা ইউনিয়নের শিবগঞ্জ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা হযরত আলীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ভাষ্য মতে,একজন নারী ভালো না মন্দ, সেটি আলাদা বিষয়। তাঁর কাছে গিয়ে কেন জোরপূর্বক এমন আচরণের চেষ্টা করা হবে? অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখা হোক এবং দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, হযরত আলীর কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে হযরত আলীর মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ বলেন,এ বিষয়ে জেলা নেতৃবৃন্দর সাথে কথা হয়েছে। হযরত আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশিদুল হাসান বলেন, থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।