তিন বছরের ছোট্ট শিশু। মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই কেঁদে ওঠে; বুক চেপে ধরে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়- কাউকে কিছু বলতেও পারে না। কোমলমতি এই শিশুটির যন্ত্রণার কারণ কোনো সাধারণ সর্দি-কাশি নয়; তার হৃদযন্ত্র হার্টে রয়েছে ছিদ্র। বুকের ভেতরে নিয়মিত চলছে একটানা এক যুদ্ধ। শিশুটির নাম জয়ন্ত কুমার গোপাল। মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সেই এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে লড়তে হচ্ছে শিশুটির।
জয়ন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার এলাকার একটি জরাজীর্ণ ঘরে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করে। তার বাবা জয় কুমার পেশায় একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে অস্থায়ীভাবে কাজ করেন তিনি। সামান্য আয় দিয়ে পরিবারের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে জয়ন্তর চিকিৎসা হয়ে উঠেছে প্রায় দুঃস্বপ্ন।
ছেলেটির বুকের ধড়ফড়ানি, নিঃশ্বাসের কষ্ট আর কান্না; সব মিলিয়ে পরিবারের প্রতিটি রাত কাটে উদ্বেগ আর শঙ্কায়। জয়ন্তর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, “ছেলেটা রাতে ঘুমাতে পারে না। হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে। তাকালে মনে হয় বুকটা ছিঁড়ে কান্না আসে।”
ঢাকায় শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ ইলিয়াস পাটোয়ারী জয়ন্তকে দেখে নিশ্চিত করেছেন- তার হৃদযন্ত্রে একটি ছিদ্র রয়েছে। একটু ব্যয়বহুল হলেও চিকিৎসাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। ডাক্তারদের হিসেব অনুযায়ী, অপারেশনসহ চিকিৎসা ব্যয় আনুমানিক ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা হতে পারে।
কিন্তু কোথায় পাবেন এত টাকা? বাবা জয় কুমারের মাসিক আয় মাত্র কয়েক হাজার টাকা। সেই টাকায় খাবার, ওষুধ, পড়াশোনা; এসব চালাতে হয়, পরিবারের মাকে দেখতে হয়। চিকিৎসার বিশাল খরচে যেন এখন তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।
ছোটবেলা থেকেই খুবই প্রাণচঞ্চল জয়ন্ত। সে এখনো হাসে, ছোটাছুটি করে। তবে হঠাৎ হঠাৎ চুপ করে বসে পড়ে বলে- "আমার বুকটা ব্যথা করে..."- এইভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে একটি শিশুর শৈশব, শুধুমাত্র চিকিৎসার অভাবে।
গণমাধ্যমকর্মীরা গেলে- জয়ন্তর বাবা-মা জানান, তারা সমাজের সহানুভূতির ভিক্ষা চান, কিছু অর্থ সাহায্য চান। সন্তানের জীবন বাঁচাতে আজ তারা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। চিকিৎসার মাধ্যমে জয়ন্তের বুকের ছিদ্র বন্ধ করা সম্ভব; শুধু প্রয়োজন কিছু হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা।
সাহায্য পাঠানোর তথ্য:
নাম: জয় কুমার (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)
ঠিকানা: লালন শাহ হল সংলগ্ন পকেট গেট (শেখপাড়া বাজার), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
মোবাইল: ০১৩০৪৮৬৬০১৪ (রকেট/বিকাশ) সমাজের সবার সামান্য সহযোগিতাই পারে শিশু জয়ন্তকে নতুন জীবন দিতে। আপনার একটি ছোট্ট সহানুভূতি বদলে দিতে পারে একটি জীবন।