অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগের তীরবিদ্ধ পিএন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫৫ পিএম
অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগের তীরবিদ্ধ পিএন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাণনাথ (পিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অচলাবস্থায় জর্জরিত। অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগের তীরবিদ্ধ প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানে গত ১৩ বছর ধরে নেই নিয়মিত অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক। ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

২০২০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবের দায়িত্বে থাকার কথা সভাপতি, কিন্তু বাস্তবে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে লাখ লাখ টাকা অস্বচ্ছভাবে লেনদেন হয়েছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে জটিলতা।

অভিযোগ উঠেছে- প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, ভর্তি, ক্লাস, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশে নানান অনিয়ম ঘটছে। শিক্ষার্থীরাও বলছে, পড়াশোনার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, দ্রুত নিয়মিত অধ্যক্ষ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া গায়ের জোরে কলেজ শিক্ষকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা, আবার কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার মতো অনিয়মও চলছে বছরের পর বছর।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটিতে আবারও অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। ১০ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র রায় চৌধুরী ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করলে, ১১ সেপ্টেম্বর ম্যানেজিং কমিটির সভায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. ওবায়দুল্লাহকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিনের মাথায় একদল শিক্ষক, বহিরাগত কিছু লোক ও কিছু শিক্ষার্থীকে উসকে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এই বিক্ষোভকারীরা প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং পদত্যাগের দাবি তোলে। এক পর্যায়ে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রীমা পারভীন ও সুদীপ্ত মণ্ডলকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও গেট তালাবদ্ধ করে তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে সুবিধাভোগী কিছু শিক্ষক আর্থিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিতের পথে বাধা দিচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে