গজারিয়ায় ভেঙে যাওয়ার ৬ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম
গজারিয়ায় ভেঙে যাওয়ার ৬ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের ষোলআনী গ্রামের খালে ওপর নির্মাণ করা সেতুটি ভেঙে পড়ার প্রায় ৬ বছরেও নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে ষোলআনী, আবাসন প্রকল্প, চর ঝাপটা ও বেরি মোল্লাকান্দি এ তিনটি গ্রামের অন্তত ৮ হাজার মানুষ বহুদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দক্ষিণ পাশ বিমসহ দেবে ভেঙে  গেছে। ভাঙা অংশে পারাপারের জন্য ১৫ মিটার দীর্ঘ কাঠ দিয়ে সাঁকো  তৈরি করা হয়েছে। গ্রামের লোকজন ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছেন।

জানা গেছে,উল্লেখিত গ্রামের প্রধান বাড়ি সংলগ্ন খালে সেতুটি ২০১৫ সালে দুর্যোগ ও পুনর্বাসনের আওতায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের চার বছরের মধ্যেই ২০১৯ সালে তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পে বালু ভরাটের পানির তোড়ে সেতুর পশ্চিম পাশ পিলারে মাটি সরে ভেঙে যায়। এরপর থেকে সেতুটি চলাচলের অনুযোগী হয়ে পড়ে আছে। মাঝে মধ্যে গ্রাম বাসী চাঁদা তুলে ওই ভাঙা সেতুর ওপর কাঠ বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে। অটো রিকশা ও ভ্যান চলাচল করতে গিয়ে  ভাঙা সেতু থেকে পরে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। 

ষোলআনী গ্রামের মোহাম্মদ আলী, তৈয়ব আলীসহ কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার ৬ বছর হলেও এখন পর্যন্ত নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেয়নি সরকার। মাঝে মধ্যে দেখি উপজেলা থেকে লোকজন এসে মেজারমেন্ট করে চলে যায়। কিন্তু কাজের কাজ খালের ওপর সেতু নির্মাণ আর হয় না। ভাংগা সেতুটি আমাদের পথের কাঁটা হয়ে দাড়িয়ে আছে। খাল দিয়ে নৌকা চলাচল বন্ধ গেছে। জমি থেকে আবাদি ফসল দীর্ঘপথ ঘুরে বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়। প্রতিনিয়ত সেতু দিয়ে চলাচল করতে অনেকে আহত হয়েছে। দড়ি নিয়ে আমরা প্রস্তুত থাকি অটো রিকশা, ভ্যান খালে পড়ে গেলে, সেটা তুলতে। সেতুটি সংস্কারের জন্য অনেক বার ইউপি চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করা হলেও তাতে কোনো লাভ হয়নি। 

ষোলআনী আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা আছিয়া খাতুন বলেন, আবাসন প্রকল্পে আমরা ২০০টি পরিবার বসবাস করি।সেতুটি ভাঙা থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে সমস্যা হয়। অটো রিকশা না আসতে পারায় প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে পাকা রাস্তা উঠতে হয়। নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। গত সপ্তাহে আমাদের গ্রামে একটি বিয়ে ছিল। বর যাত্রী এসেছিল। সেতুটি পার হতে গিয়ে অটোরিকশা সহ নিচে পড়ে যায়। এতে কয়েক জন আহত হন।

বেরি মোল্লাকান্দি গ্রামের ৬৫ বছর বয়োবৃদ্ধ দীন ইসলাম বলেন, সেতুটি ভেঙে পড়ায় আমাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার কৃষকদের মৌসুমি ফসল সময় মত বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারে না। আমরা চাই ভাঙা সেতুটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুজ্জামান খান জিতু বলেন, গ্রামের লোকজন সেতুটি সংস্কারের জন্য আমার কাছে অনেকবার এসেছিল। সেখানে একটি সেতু নির্মাণের কথা বলতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আমিও অনেকবার গিয়েছি। তাঁরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ আসলে ওই স্থানে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে