দিল্লিকে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি

দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরাতে আন্তর্জাতিক পথে এগোচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:১৪ পিএম
দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও কামালকে ফেরাতে আন্তর্জাতিক পথে এগোচ্ছে সরকার

সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফেরাতে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথ ধরেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং প্রয়োজনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের পর এই প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে বারবার অনুরোধ জানিয়েও তাঁকে ফেরত আনতে সফল হয়নি বাংলাদেশ। একই সময়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতে অবস্থান করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা ফেরত আনার চাপ আরও বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কাছে নোট ভারবালের মাধ্যমে হস্তান্তরের অনুরোধ পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, ভারতের উচিত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফেরত দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে সম্মান জানানো। তাঁর ভাষায়, সরকার এখন প্রত্যাবর্তন চুক্তি ও আন্তর্জাতিক বিধান অনুযায়ী ভারতের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার বিবেচনা করছে, আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ফেরত আনার কোনো পথ কার্যকর হয় কি না। তিনি জানান, অচিরেই এ বিষয়ে আলাদা বৈঠক হবে।

বৃহস্পতিবারই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আয়োজিত অন্য এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে ফেরানো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সফরের আলোচনায় অন্য প্রসঙ্গ টেনে আনা ঠিক হবে না। তাঁর এই কৌশলী উত্তরে সাংবাদিকদের মাঝে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়, তবে তিনি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্যেই থাকতে অনুরোধ জানান।

উপদেষ্টা পরিষদের ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে ফেরাতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। উপদেষ্টারা মনে করছেন, আইসিজে বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতো সংস্থায় যাওয়ার পথ খোলা রাখাই এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের মতে, রায়ের কপি পাঠানো হবে না, বরং নোট ভারবালের মাধ্যমে ভারতের কাছে ফেরত চাওয়া হবে যাতে প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয়।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একই ব্রিফিংয়ে জানান, আগামী তিন থেকে চার কার্যদিবসের মধ্যেই গণভোটের অধ্যাদেশ তৈরির কাজ শেষ করার পরিকল্পনা আছে। তবে দণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিই এখন সরকারের সর্বাগ্রে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে