পঞ্চগড়ে হিমেল হাওয়ার দাপট ক্রমেই বাড়ছে। শীতের তীব্রতায় কাঁপছে সীমান্ত জেলা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা চলতি মৌসুমে অন্যতম কম, ফলে দিনরাতের তাপমাত্রার বড় পার্থক্যে শীত আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।
সকাল থেকে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ এবং হাওয়া বইছিল ঘণ্টায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে। ভোরের কুয়াশা কেটে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলেও শীতের কামড় কমেনি। এর আগের দিন সোমবার একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগের রোববার রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৭ থেকে বাড়িয়ে ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রাতের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় শীতের দাপট আরও বেড়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়াবিদ জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, ডিসেম্বরের শুরুতেই শীত আরও জেঁকে বসবে। তিনি বলেন, “পরবর্তী সপ্তাহে শৈতপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে, তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”
শীতের এই তীব্রতা শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেই কঠিন করে তুলছে না, গবাদিপশুর মাঝেও নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে পঞ্চগড় সদরসহ পাঁচটি ভেটেরিনারি হাসপাতালে ৪০০-র বেশি পশুর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং মারা গেছে ৪০টির বেশি প্রাণী। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে অল্প বয়সী গরু ও ছাগল।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ঠান্ডায় শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়া, দুর্বলতা, গলা ফুলে ওঠা এবং পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা সাধারণ হয়ে উঠেছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে অনেক পশুর মৃত্যু ঘটছে এক সপ্তাহের মধ্যেই।
সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন খামারি ও কৃষকরা। হাসপাতাল থেকে তালিকা দিয়ে বাজার থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাঁদের। সোমবার সদর প্রাণী সম্পদ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ পশু নিয়ে মানুষজন ভিড় করেছেন। হাসপাতালের কর্মীরা চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুধ না থাকায় তারা রোগীদের হাতে বাজারের তালিকা তুলে দিচ্ছেন।
ডুডুমারী গ্রামের রমজান আলী বলেন, “চার দিন ধরে বাছুরটা অসুস্থ ছিল। দুই দিন হাসপাতালে ঘুরেও ওষুধ পাইনি, শেষ পর্যন্ত ৬০০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।” মিরগড়ের আরমান আলী জানান, পাঁচ দিন ধরে তার বাছুর কিছু খেতে পারছে না, পাতলা পায়খানা করছে। “হাসপাতালে গিয়ে শুধু তালিকা পেয়েছি, এখন স্যালাইন চলছে।”
খামারিদের অভিযোগ, হাসপাতালে গেলে প্রায়ই কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় না। অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সময় কাটান কর্মকর্তারা, আবার জরুরি সময়ে সরকারি গাড়িতে মিটিংয়ের অজুহাতে অনেকে বাইরে চলে যান।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মরিয়ম রহমান বলেন, “সরকারিভাবে আমরা খুব সীমিত বরাদ্দ পাই। অবকাঠামোগত উন্নয়নও নেই। তারপরও সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”