ক্ষমতায় গেলে ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ও উৎসব ভাতা দেবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:৪৭ পিএম | প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম
ক্ষমতায় গেলে ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ও উৎসব ভাতা দেবে বিএনপি
ছবি, সংগৃহীত

ক্ষমতায় গেলে মসজিদের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি তাদের কল্যাণে গঠিত ট্রাস্টগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও জানিয়েছে দলটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই প্রতিশ্রুতি আসছে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে।

গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “সামনের নির্বাচনী ইশতেহারে থাকবে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের বিষয়টি। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করবো এবং বিদ্যমান ট্রাস্টগুলোকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না। একই সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তার ভাষায়, “ধর্মীয় শিক্ষায় দক্ষ ও যোগ্য আলেমদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে।”

এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী সমঝোতা উপলক্ষে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, সমঝোতার অংশ হিসেবে চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। এসব আসনে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নীলফামারী-১ আসনে মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবিব জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলীয় সূত্র জানায়, শুরুতে জমিয়ত পাঁচটি আসনের দাবি জানালেও পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুপারিশে চারটি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি একদিকে ধর্মীয় ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে জোট রাজনীতিতে শরিকদের গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে এই প্রতিশ্রুতি কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে