পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কলেজ ছাত্র সিয়াম হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামী মোঃ রায়হান (২২) কে বরিশাল থেকে আটক করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে আসামী রায়হানকে বরিশাল থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আঃ সালাম। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতেই ৩জনের নাম উল্লেখসহ ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের পিতা মোঃ বাছেদ তালুকদার (জুয়েল)। মামলা নং- ১১, তাং-২৪.১২.২০২৫ইং। আটক প্রধান আসামী মোঃ রায়হান (২২) মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের আঃ ছালাম মিয়ার পূত্র।
এ ঘটনায় আহত নিহত সিয়ামের খালাতো ভাই আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (১৭) অবস্থা আশংকাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত মোঃ সিয়াম (১৮) পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া গ্রামের মোঃ জুয়েল তালুকদারের ছেলে ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের শহীদ রমিজ উদ্দীন কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে মির্জাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খাঁন নূরুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশ কে জানান, নিহত সিয়াম ও আহত মাহমুদ সম্পর্কে খালাতো ভাই। ঘটনার দিন (মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর মরিচবুনিয়া নানা বাড়ি থেকে মির্জাগঞ্জের খালার বাড়িতে বেড়াতে আসেন এবং ঐ দিন দুপুরের পরে দুই খালাতো ভাই সিয়াম ও মাহমুদ ঘুরতে যান। বেলা তিনটার দিকে উপজেলার সুবিদখালী সরকারী কলেজের পিছনে একটি মাঠে বসে তারা গল্প করছিলেন, এ সময় অপরিচিত ৩/৪ জন যুবক এসে মাদক সেবনের অভিযোগ দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবী করে। এ সময় সিয়ামের সাথে বিবাদীদের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বিবাদীরা সিয়ামকে মারধর করতে থাকলে সাথে থাকা খালাতো ভাই মাহমুদ বাঁধা দিলে বিবাদীরা তাকেও মারধর করে আহত করে। বিবাদীদের মারধরে সিয়াম অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা সিয়াম ও মাহমুদকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যায়।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আবদুর রহমান শামীম জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সিয়াম ও মাহমুদকে হাসপাতালে নিয়ে এসে জরুরী বিভাগের সামনে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যায় অজ্ঞাত ৪/৫জন লোক। হাসপাতালে আনার পূর্বেই সিয়ামের মৃত্যু হয়েছে। আহত আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (১৭)এর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আঃ সালাম জানান, মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামীদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী শেষে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক রায়হানকে মির্জাগঞ্জ থানায় আনার জন্য বরিশালে ফোর্স পাঠানো হয়েছে।