ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার দেখতে বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ত্যাগের পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, তাই দেশজুড়ে এখন এক ধরনের আনন্দ ও আশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন আমীর খসরু।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ এখন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সংসদ গঠন করতে চায় এবং একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যে সরকার ও সংসদ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।” তার ভাষায়, আজ মানুষ তাদের মালিকানা ফিরে পেয়েছে, এটি সবার জন্য আনন্দের দিন।
আমীর খসরু বলেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ নানা ত্যাগ স্বীকার করেছে। কেউ জীবন দিয়েছেন, কেউ গুম বা খুনের শিকার হয়েছেন, কেউ মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছেন, কেউ চাকরি হারিয়েছেন। এসব ত্যাগের বিনিময়েই আজ গণতন্ত্রের পথে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই আনন্দ কোনো একটি দলের নয়, যারা আন্দোলন করেছেন, যারা শহীদ হয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, সবার জন্যই এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবাইকে জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচনের পথে এগিয়ে যেতে হবে। এর বিকল্প কোনো পথ নেই। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে, এটিই গণতন্ত্রের মূল কথা। তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ভিন্নমত থাকলেও একে অপরের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং একটি সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জোট ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, প্রত্যেক দলেরই অধিকার রয়েছে তারা কীভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে, তা নির্ধারণ করার। তিনি বলেন, “এটি একটি অধিকার, আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে এবং কার মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।”
উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, উন্নয়ন বলতে সঠিক ও টেকসই উন্নয়ন বোঝাতে হবে। এমন উন্নয়ন নয়, যেখানে অনিয়ম বা লুটপাট থাকে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ যেন উন্নয়নের সুফল পায়, সেটাই বিএনপির লক্ষ্য।
বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, এটি গঠনতন্ত্রের বাইরে কিছু নয়। প্রার্থী প্রত্যাহারের সুযোগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ এবং অতীতেও এমন হয়েছে। দীর্ঘদিন প্রকৃত নির্বাচন না হওয়ায় এবারের নির্বাচনে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।