ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নিহত শরিফ ওসমান হাদি যে আসন থেকে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঠিক সেই আসনেই প্রার্থী হয়ে নাসীরুদ্দীন বললেন, তিনি এই লড়াইয়ে নেমেছেন চরম ঝুঁকি এবং মৃত্যুর আশঙ্কা জেনেই।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মনোনয়ন দাখিলের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমার ওপর একটি বড় দায়িত্ব এসেছে। শহীদ ওসমান হাদির পথ বাস্তবায়ন করা এবং সাম্য ভাইসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা।”
ঢাকা-৮ আসনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকাটি এখন এক ধরনের মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। এখানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হাদি ও ছাত্রদল নেতা সাম্যের হত্যার বিচার দ্রুত না হলে নিরাপদ নির্বাচন ও নিরাপদ রাজনীতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা এই নির্বাচনে দুর্নীতিবিরোধী, সন্ত্রাসবিরোধী এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মাঠে নেমেছি। আমাদের লক্ষ্য ঢাকাকে সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত শহর হিসেবে গড়ে তোলা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন এই জোট সরকার গঠনের সক্ষমতা রাখে এবং সরকার গঠন হলে দেশকে একটি নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
জামায়াতের সঙ্গে জোট করা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়। এটি একটি কৌশলগত জোট। দুর্নীতি, বিচার, সংস্কার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে একমত হয়েই এই ঐক্য গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “দ্বিমত থাকতেই পারে। বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গেও আমাদের অনেক বিষয়ে দ্বিমত আছে। কিন্তু দেশের স্বার্থে এই ঐক্য।”
ঢাকা-১৮ আসন ছেড়ে কেন ঢাকা-৮ এ এলেন, সে প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন জানান, ঢাকা-১৮ আসনে তার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ ছিল। তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থ এবং জোটের সমন্বিত সিদ্ধান্তের কারণেই তাকে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হতে হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আসনটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু সবাই মনে করেছে তিনি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। শহীদ হওয়ার তামান্না নিয়েই আমি এখানে এসেছি। বাংলাদেশ আমার কাছে সবার আগে। যদি আমি শহীদও হই, দাবি থাকবে আপনারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”
ঢাকা-৮ আসনে নাসীরুদ্দীনের প্রার্থিতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে নিহত শরিফ ওসমান হাদিও এই আসন থেকে নির্বাচনে নামার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে।