আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আর বাড়ানো হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল পাঁচটার মধ্য দিয়েই মনোনয়ন দাখিলের সময় শেষ হয়েছে। ফলে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় আর কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন না।
মনোনয়ন দাখিলের সময় বাড়তে পারে, এমন গুঞ্জন কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আর বাড়ছে না। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজই ছিল শেষ দিন।”
তিনি জানান, বড় কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও সময় বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন আসেনি। এ কারণে কমিশনের ভেতরেও সময়সীমা পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সারাদেশের আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। শেষ দিনে অনেক এলাকায় মনোনয়ন জমা দিতে প্রার্থীদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।
সারাদেশে মোট কতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক সংখ্যা জানানো সম্ভব হয়নি বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশ থেকে তথ্য আসার প্রক্রিয়া চলছে। এগুলো সংকলন করতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করছি সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত দশটার দিকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান জানাতে পারব।”
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, জমা পড়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হবে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) থেকে, যা চলবে ২০২৬ সালের শনিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে রবিবার (৫ জানুয়ারি) থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) থেকে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত।
চূড়ান্তভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন সোমবার (২০ জানুয়ারি)। পরদিন মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এরপর বুধবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন দাখিল নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার অবসান হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন মনোনয়ন বাছাই ও পরবর্তী ধাপগুলো ঘিরেই রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।