দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যার যতটুকু অবস্থান আছে, সেখান থেকেই ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছান তারেক রহমান। হাজারো নেতাকর্মীর ভিড় ঠেলে বিকেল ৪টার দিকে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের সালাম দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ এখানে কোনো দলীয় কর্মসূচি নেই। তাই রাস্তা বন্ধ করে রাখা ঠিক হবে না। রাস্তা বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হয়। তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান, দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দিতে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে সহায়তা করতে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমাদের যার যতটুকু অবস্থান আছে, সেখান থেকেই আসুন আমরা দেশটাকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। কোথাও রাস্তায় কাগজ বা ময়লা পড়ে থাকলে সেটাও সরিয়ে দেব। এভাবেই ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়ে দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হতে হবে।” বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে ভালো থাকার দোয়া করেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চান।
এর আগে বেলা ৩টার দিকে গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে নয়াপল্টনের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ফুল দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেলসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। দলীয় কার্যালয় বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়। কার্যালয় ও আশপাশে তল্লাশিতে ছিল র্যাবের ডগ স্কোয়াড।
দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর রোববার (২৮ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন তারেক রহমান। সোমবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও যুক্ত হন।