ত্রিশালে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন ভিক্ষুক মুনসুর

এফএনএস (ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) : | প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:৫০ পিএম
ত্রিশালে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন ভিক্ষুক মুনসুর

পেশায় ভিক্ষুক আবুল মুনসুর। তাতে কি। গনতান্ত্রিক অধিকারে যে কোন নাগরিক নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। সেই অধিকারে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ভিক্ষুক আবুল মুনসুর। বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলার বইলর ইউনিয়নের বড় পুকুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল মুনসুর। পারিবারিক দৈন্যতার কারনে অল্প বয়সেই দিনমজুরের কাজে নামতে তাকে। বিয়ের পর অন্যের রিকসা ভাড়ায় চালিয়ে রোজগারের পথ বেছে নেন। তার ১০/১২ বছরের মাথায় হটাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রিকসা চালাতে অক্ষম হয়ে পড়ে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। তাঁর ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে দুই ছেলে কর্মঠ হলেও গত ১৬ বছর ধরে ভিক্ষা করেই চলছে তার সংসার। কিন্তু সরকারি কোন ভাতার সুযোগ-সুবিধাও জোটেনি তাঁর ভাগ্যে। ওই ক্ষোভ থেকেই জনগনের সেবক (জনপ্রতিনিধি) হওয়ার স্বপ্ন জাগে তাঁর মনে। স্বপ্নপূরনে ২০২৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার বইলর ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন ভিক্ষুক আবুল মুনসুর। সেই নির্বাচনে ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে চশমা প্রতীক নিয়ে ৩৭৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। যদিও ‘পাগলের প্রলাপ’ এমনটা ধারণা নিয়ে নিজের সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের কোনরুপ সহযোগিতা ছিলনা ওই নির্বাচনে। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েও মাঠে নেমেছিলেন ষাটোর্ধ্ব এই আবুল মুনসুর। ওই সময় এক হাতে পোস্টারের ব্যাগ, আরেক হাতে আঠার বালতি নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে, একা একাই নিজের পোস্টার নিজেই সাঁটিয়েছেন দেয়ালে দেয়ালে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হতে তিনি সোমবার  ৯২৯ ডিসেম্বর) ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। 

একজন ভিক্ষুকের এমন সাহসী পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে চমক হিসেবেই মনে করছেন। তবে ভোটযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত তিনি কতটুকু  প্রভাব ফেলতে পারেন তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। তবে ফলাফল যাইহোক আবুল মনসুর কে ইতোমধ্যেই সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বেশ আলোচনা। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার ছবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। 

আবুল মুনসুর ফকির বলেন, মনের একটা কষ্ট থেকে আমি এমপি প্রার্থী হয়েছি। আমি যদি এমপি হিসেবে জয়ী হতে পারি, তবে এলাকার রাস্তাঘাট ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করবো। আমি বিশ্বাস করি সাধারণ মানুষ আমার পাশে থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে