ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ-ঝিনাইদহ সদর আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক ওবায়দুল হক রাসেল।সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদের কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।ওবায়দুল হক রাসেল একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্প উদ্যোক্তা। তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে শিল্পায়নে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলায় তিনি এমাস ফুডওয়্যার নামে একটি জুতা কারখানাসহ কয়েকটি শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন, যেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল হক রাসেল বলেন, আমি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আজ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধান করতেই আমি নির্বাচনে এসেছি। রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, বরং মানুষের সেবা করার একটি মাধ্যম।
তিনি আরও বলেন, আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবো। সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ভূমিকা রাখবো। বিশেষ করে এলাকার বেকার যুবকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ, পুঁজি ও সুযোগ সৃষ্টি করবো, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া তিনি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, মোবারকগঞ্জ চিনিকল শুধু একটি কারখানা নয়, এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণ। চিনিকলের আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোসহ সব সেক্টরে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার।
মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় অনেকেই মনে করছেন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ওবায়দুল হক রাসেল নির্বাচিত হলে ঝিনাইদহ-৪ আসনে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।