আজ ৩০ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র ডিসমিস’ দিবস

এম. কে. দোলন বিশ্বাস | প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:৪১ এএম
আজ ৩০ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র ডিসমিস’ দিবস
এম. কে. দোলন বিশ্বাস

আজ ৩০ ডিসেম্বর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সপ্তম বর্ষপূর্তি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের এদিনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ী কব্জায় জাতীয় সংসদের ২৮৮টি আসনের সাথে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরাজিত ঘরে ৭টি আসনের বিতর্ক এখনো অমীমাংসিতই রয়েছে। আমি শারীরিকভাবে না হলেও মানসিকভাবে ৩০ ডিসেম্বরকে গণতন্ত্রের ডিসমিস দিবস হিসেবে পালন করে থাকি। ফলশ্রুতিতে ৩০ ডিসেম্বর দিনটিকে স্মরণ করতে গণমাধ্যমে বিশেষ কলাম লিখে আসছি। যার ধারাবাহিকতা আজ এ কলামটি লেখা। 

অমীমাংসিত বিতর্ক সূত্রে ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেছে। তৎকালীন সরকারি দল তথা আওয়ামী লীগ দিবসটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশের মানুষের ভোটাধিকার লুট করা হয়েছে মর্মে দাবি করে দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি। গণতান্ত্রিক বাম জোটের নেতারা বলে আসছিলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে। সেকারণেই ৩০ ডিসেম্বর ‘কালো দিবস’। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মতে, ‘মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করার জন্য আওয়ামী লীগের যেমন কৃতিত্ব দাবির অধিকার আছে, তেমনই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্ক রচনা করার ইতিহাসও তাদের। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন আওয়ামী লীগের কলঙ্ক অধ্যায়।’

তৎকালীন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের ভাষ্য ছিলো, ‘৩০ ডিসেম্বরে ভোট ডাকাতি হয়েছে। ভোট ডাকাতি করা রাষ্ট্রদ্রোহ। ভোট ডাকাতদের ধরতে হবে।’ গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আবু সাইয়িদ অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘ভোট ডাকাতি নয়, জনগণের অধিকার ডাকাতি করা হয়েছে।’ 

গণতন্ত্রের পক্ষে সাদা পতাকা হাতে নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীতে শান্তি মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ঢাকা-৪ আসনের তৎকালীন এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। তবে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি দলীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি।

আমরা উপলব্ধি করছি যে, ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস বনাম গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ বিতর্কে ডিজিটালের ডান্ডা বেড়িতে সচেতন মহলের বোবা দাবি, ‘নৈশ ভোটের বর্ষপূর্তি, রাতের ভোটের বর্ষপূর্তি।’ বিশেষ করে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ৩০ ডিসেম্বর দিনটিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালনের লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করে ছিলো। অন্যদিকে, একসময়কার তিনবারের দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি দিবসটিকে ‘গণতন্ত্রের কলঙ্কময়’ উল্লেখ করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের আগ পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের জেলা শহরগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিল। 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জানুয়ারি মার্কায় অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জোট বেঁধে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধার একটি আসনে সেদিন নির্বাচন হয়নি। ওই নির্বাচনে অস্বাভাবিক ভোটে ২৮৮টি আসনে অভাবনীয় জয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটের শরিকরা।

অন্যদিকে, মাত্র ৭টি আসনে জয় পেয়ে ভরাডুবি হয় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। বাকি তিনটি আসন পায় অন্যরা। অনেক ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়ে বলে ফলাফলে দেখা যায়। যার অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর ভোট।

নির্বাচনে ভোটডাকাতির অভিযোগ এনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট ওই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। শুরুতে শপথ না নেয়ার অবস্থানে অনড় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া নির্বাচিত বাকিরা সংসদে যান।

৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে নিয়ন্ত্রিত এবং একচেটিয়াভাবে নির্বাচন সম্পন্নের। বেশ কয়েকটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও ওই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় অভিযোগের পাল্লা অনেকটাই ভারী হয়।

নির্বাচনের দিন ভোট শুরুর এক থেকে দুই ঘণ্টা যেতে না যেতেই অনেক এলাকা থেকে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ভোটগ্রহণে নানাবিধ অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। দুপুরের আগেই ১০০টির বেশি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আসে গণমাধ্যমে।

ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন নির্বাচন নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিলো ‘দেশের সব জায়গা থেকে ভোটডাকাতির খবর এসেছে। প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করা হোক।’ অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা তখন বলেছিলেন, ‘এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিএনপিকে বয়কট করেছে। বিএনপির ওপর অনাস্থা থেকে জনগণ বিএনপি ও তাদের সঙ্গীদের ভোট দেয়নি। দেশের সচেতন জনগণ বিএনপিকে বয়কট করেছে।’

৩০ ডিসেম্বর বর্ষপূর্তি পালন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের বলতে শোনা গেছে, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং ভোটের ফলাফল মেনেও নিয়েছে। সংসদেও এসেছে। তাই ৩০ ডিসেম্বরকে ‘কলঙ্কময় কালো দিবস’ ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দেওয়া হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা নিয়ে কলঙ্কময় কালো দিবসে ঘোষণা রাজনৈতিক কারণ নয়।

৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করে। অন্যদিকে বিএনপি ভাষ্য, ৩০ ডিসেম্বরে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করা পুরো জাতির সাথে মশকরা। আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বর ভোট চুরি করেছে। ভোটডাকাতি করেছে, আবার সেটা জনগণকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, জাতি কী জানে না, তারা ৩০ ডিসেম্বর ভোট দিতে পেরেছে কি-না। ভোট চুরির এই দিনে সারা দেশে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করা হাস্যকর বলেও মন্তব্য বিএনপির।

যদিও ওই নির্বাচনে ভোটের দিন সারা দেশে সব ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অনেক নির্বাচনি এলাকা থেকে বিএনপি এবং তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কিছু প্রার্থী ভোটের আগের রাতেই ভোটকেন্দ্র নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে নানা অভিযোগ তুলেন। ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ ছিলো, রাতেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোট প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট পেপারে সীল মেরেছে। প্রায় সারা রাতই বিরোধী প্রার্থীরা বিভিন্ন মিডিয়ায় টেলিফোন করে এমন অভিযোগ করছিলেন।

তবে ভোটের আগের রাতে সীল মারার অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশনও এমন অভিযোগ মানতে রাজি হয়নি। অনেক কেন্দ্রে বিএনপিসহ বিরোধী জোটের প্রার্থীদের এজেন্ট ছিলো না। কেন্দ্রগুলোর বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের তৎপরতা ছিলো চোখেপড়ার মতো। তবে এটা বাস্তব যে, ভোটগ্রহণের আগের পরিবেশও বিরোধী দলের জন্য বিপজ্জনক ছিল। গায়েবি মামলায় বিরোধী দলের অনেক নেতা-কর্মী পালিয়ে বেড়িয়েছেন। প্রার্থীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বেশির ভাগ আসনে বিরোধী দলের প্রার্থীকে প্রচার কাজ করতে দেওয়া হয়নি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু একান্ত আলাপচারিতায় জানিয়েছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতি করেছে। সেকারণেই এখন তাদেরকে চোরের মতো দেখা যায়। ৩০ ডিসেম্বরে জনগণ ভোট দিতে পেরেছে কি-না, জাতি সেটা ভোলেনি। ভোট চুরির দায়ে আওয়ামী লীগ আজ জনগণের কাঠগড়ায়।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর ওই কলঙ্কময় কালো দিবস। বাংলাদেশের মানুষ এই দিনটিকে ক্ষোভ ও ঘৃণার সঙ্গেই স্মরণ করে। সেকারণেই ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে ইতোমধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

আওয়ামী লীগের ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন কাটা ঘায়ে লবণের ছিটা মন্তব্য করে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর ভোট চুরির দিন। এই দিনে ৩০ ডিসেম্বর হাঁকডাক করে ভোট চুরি করেছিল আওয়ামী লীগ। কীভাবে সেদিন নির্বাচন হয়েছে, কীভাবে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে এগুলো দেশের মানুষ জানে এবং বোঝে। এখন তারাই ৩০ ডিসেম্বরকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করে। এটা কাটা ঘায়ে লবণের ছিটা। আওয়ামী লীগের এই ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করা হাস্যকর।’ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন জাতির সাথে মশকরা মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করা পুরো জাতির সাথে মশকরা।’

অনেকের মতে, ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামরিক শাসকদের গণভোটকেও হার মানিয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নির্বাচনকে প্রহসন বলে অভিহিত করে ছিলো। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) ৫০টি আসনে জরিপ করে নির্বাচনকে ‘অভূতপূর্ব’ ও ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছে। টিআইবি ৪৭টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে আছে: নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সীল দেওয়া, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ না দেওয়া। অনেক ভোটারের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে সীল মারা, জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা, ভোট শুরুর আগে ব্যালট ভর্তি বাক্স, ভোট শেষের আগে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া, গণমাধ্যমের জন্য ‘অভূতপূর্ব’ কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। (তথ্যসূত্র : প্রথম আলো- ১৭.০৫.২০১৯)

আমরা মনে করি, বিএনপির কাছে মনে হয়েছে যে ভোটে কারচুপি হয়েছে; তাই তারা এই দিনটিকে গণতন্ত্রের হত্যা দিবস হিসেবে পালন করেছিল। আওয়ামী লীগ যদি মনে করে, নির্বাচন সঠিক হয়েছে; তাতে গণতন্ত্রের কী এমন বিজয় হলো? নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্বাচন কমিশনের রুটিন কাজ। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সালেও তো নির্বাচন হয়েছে! হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে কী দিয়েছে? বাস্তবিক পক্ষেই ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনের নামে আওয়ামী লীগের জয় হয়েছে, গণতন্ত্রের নয়। বিএনপির এই দিনটিকে গণতন্ত্রের হত্যা দিবস হিসেবে পালন করার যৌক্তিক কারণ আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্তৃক পালিতব্য এই ‘গণতন্ত্র বিজয় দিবস’ তাদের দৈন্যতাই তুলে ধরছে! কারণ, ওই নির্বাচনে দেশের মানুষের ভোটাধিকার লুট করা হয়েছে। রাষ্ট্র যন্ত্রকে যেভাবে ওই নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়েছে তা খুবই ন্যক্কারজনক। মানুষের ভোটাধিকার হরণের ওই কলঙ্ক অধ্যায় মানুষের মন থেকে কখনো মুছে যাবে না।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যে যেভাবে মন্তব্য করুক না কেনো, দেশের জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে নিতান্তই বলতে হয় ‘৩০ ডিসেম্বরে আসন ভাগাভাগির ডিসেম্বর মার্কায় ভোটের নামে মূলত গণতন্ত্রকে ডিসমিস করা ছাড়া বৈকি? সেকারণেই ৩০ ডিসেম্বর হতে পারে ‘গণতন্ত্র ডিসমিস দিবস।’

লেখক : এম. কে. দোলন বিশ্বাস

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে