নৌকার বিপক্ষে বাবা, ধানের শীষের বিপক্ষে স্বতন্ত্রে আমি: রূমিন ফারহানা

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২৪ এএম
নৌকার বিপক্ষে বাবা, ধানের শীষের বিপক্ষে স্বতন্ত্রে আমি: রূমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) বিএনপি’র শরিক জমিয়তে উলামা ইসলামের প্রার্থী মাওলানা জুনাঈদ আল হাবিবকে রেখেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলটির সংরক্ষিত আসনের সাবেক মহিলা এমপি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ সম্পাদক ব্যারিষ্টার রূমিন ফারহানা। গতকাল সকাল থেকেই গোটা আসনের মানুষের আলোচনার বিষয় ছিল রূমিন ফারহানার মনোনয়নপত্র জমার বিষয়টি। অবশেষে সোমবার বেলা ২টার পর সহস্রাধিক কর্মী সমর্থকসহ সরাইল সদরে প্রবেশ করেন তিনি। পরে আনুষ্ঠানিক ভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের কাছে স্বতন্ত্র প্রার্থীতার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ সময় উনার পাশে ছিলেন দলের অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান কিছু নেতা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর উপজেলা চত্বরে দাঁড়িয়ে  সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দল এখন খুবই ব্যাস্ত। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাত্র দেশে আসছেন। তিনি ভোটার হয়েছেন। নির্বাচনী কাজ কর্ম নিয়ে তিনি সহ সকলেই ব্যস্ত আছেন। তাই এই মূহুর্তে কারো সাথে মনোনয়ন বিষয়ে আমার কথা হয়নি। দল যদি জোটের খাতিরে আপনার মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে চাপ দেয়, তখন আপনি কী করবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রূমিন ফারহানা বলেন, আমি নির্বাচন করার বিষয়ে এখন যা বলছি। দল চেপে ধরলে দেখবেন তখনও তা-ই বলব। আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের বুঝার বাহিরে। আল্লাহ পরিকল্পনায় ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগের জোয়ারের বিপক্ষে আমার বাবা অলি আহাদকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে হয়েছিল। রাব্বুল আল আমীনের কী  অদ্ভুদ পরিকল্পনা। আবার দীর্ঘ ৫৩ বছর পর ২০২৬ এ এসে আমাকেও ধানের শীষের জোয়ারের বিরূদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। আপনার দেখেন প্রতিটা মানুষের চোখে কতটুকু আশা, ভালোবাসা, আস্থা এবং বিশ্বাস। আমি বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে দোয়া চাই। আমার উপজেলার মানুষ যে ভালোবাসা আস্থা আর বিশ্বাস আমার উপর রেখেছেন আমি যেন তার উপযুক্ত প্রতিদান দিতে পারি। দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রূমিন ফারহানা গত এক যুগেরও অধিক সময় ধরে এই আসনের মানুষের সাথে কাজ করছেন। তিনি বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের ভাষা সৈনিক প্রয়াত অলি আহাদের একমাত্র মেয়ে। তিনি মহিলা এমপি থাকাকালে নিজ জন্মভূমির জন্য কাজ করেছেন। সরাইল আশুগঞ্জেই বেশী সময় দিয়েছেন। ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে উনার পিতা শেখ মুজিবর তথা আওয়ামী লীগের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু উনার জয়টা সেই সময়ে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। তাই পিতার হারানো আসনে নির্বাচন করে জয়লাভ করে কিছুটা হলেও শান্তি স্বস্থি পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। আর এ জন্যই দলের কাছে উনার প্রত্যাশা ছিল এই আসনটি যেন জোটের প্রার্থীকে না দেয়। সেটা দলকে তিনি বলেও ছিলেন। কিন্তু বিএনপি উনার চাওয়া রক্ষা করতে পারেনি। জোটের সাথে আসন সমঝোতা করতে গিয়ে জমিয়তকে এই আসনটি ছেড়ে দেন দলের নীতি নির্ধারকরা। এতে মনক্ষুন্ন হন রূমিন ফারহানা ও উনার সমর্থকরা। এর আগে তিনি নির্বাচনী এলাকার মানুষদের কথা দিয়েছিলেন দল মনোনয়ন না দিলেও তিনি এই আসন থেকে নির্বাচন করবেনই। স্থানীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই তখন বলাবলি করছিলেন, শেষ পর্যন্ত দলের সাথে একটা সমঝোতায় গিয়ে রূমিন ফারহানা এখানে নির্বাচন নাও করতে পারেন। তাই শেষ দিনে গতকাল উনার মনোনয়ন জমা নিয়ে বিএনপি অঙ্গসহযোগি সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক চিন্তা কাজ করছিল। অনেককেই বলতে শুনা গেছে ‘কেন্দ্রীয় এই নেত্রী কী আসলেই মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন? নাকি কেন্দ্রের চাপে শেষ পর্যন্ত নিজেকে গুটিয়ে নিবেন। না অলি আহাদের মেয়ে সহস্রাধিক কর্মী সমর্থক নিয়ে রাজপথ কাঁপিয়ে প্রবেশ করলেন সরাইল সদরে। জমিয়তের এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীতার মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সকল প্রকার জল্পনা কল্পনা ও নেতিবাচক চিন্তার জবাব দিলেন তিনি। মনোনয়ন জমার পর রূমিন ফারহানা আবারও বলেন, আমি গত ১৭ বছর মানুষের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। মানুষকে ভালো বেসেছি। আপন করে কাছে টেনেছি। আজকে তারাই আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করেছেন। তারাই ভোটের মাধ্যমে আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ার জবাব দেবেন। আমি জনগণের সাথে ছিলাম আছি এবং থাকব। ওদিকে এর আগে গতকাল সকাল বেলা বিশাল জনসমাগম ঘটিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি’র অন্যতম শরিক জমিয়তে উলামা ইসলামের মাওলানা জুনাঈদ আল হাবিব। এ সময় উনার সাথে নিজ দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, সহভাপতি ও সরাইল উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুর, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরূজ্জামান লস্কর তপু, সাংগঠনিক সম্পাদক দুলাল মাহমুদ আলী, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন প্রমূখ। জাপা’র প্রার্থী এডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার পক্ষে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন উপজেলা জাপার সভাপতি এমদাদুল হক ছালেক ও সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির। জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উনার সাথে ছিলেন সরাইল উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মো. এনাম খাঁন, সম্পাদক মো. জাবেদ উদ্দিনসহ সরাইল আশুগঞ্জের নেতা কর্মীরা। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা নেছার আহমেদ আন নাছিরী। এ ছাড়া জাসদের (রব) এড. তৈমুর রেজা মো. শাহজাদা, এনসিপি’র আশরাফ উদ্দিন মাহদী ও খেলাফত মজলিশের আবুল ফাত্তাহ মো. মাসুক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে