রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় আহমেদ জুবায়ের (২৫) নামের এক কৃষককে হত্যার ঘটনায় বিপ্লব হোসেন (৫২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) র্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
র্যাব জানায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ওয়াপদা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব -৫ এর সদর কোম্পানী ও র্যাব-১০ এর ফরিদপুরের সিপিসি-৩ এর একটি দল যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার বিপ্লবের বাড়ি মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া গ্রামে। তিনি এলাকায় পুকুর খনন চক্রের মূলহোতা। তিনি ধরা পড়লেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই বিএনপি নেতা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার বিপ্লব মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে মোহনপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে র্যাব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মোহনপুরের ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালসা বিলে কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে পুকুর কাটতে শুরু করেছিল একটি চক্র। গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে পুকুর কাটার সময় শতাধিক গ্রামবাসী গিয়ে বাধা দেন। তখন ভেকু চালক আবদুল হামিদ ভেকুর বাকেট চারপাশে ঘোরাতে থাকেন, যেন গ্রামবাসী তার কাছে যেতে না পারে। এ সময় ভেকুর বাকেটে মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে যান আহমেদ জুবায়ের। এরপর তার শরীরের ওপর ভেকু তুলে দেন চালক হামিদ। এতে ঘটনাস্থলেই জুবায়েরের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা হামিদকে আটক করে পুলিশে দেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহনপুর থানায় হত্যামামলা করেন। এতে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে শুধু হামিদকে আটক করেছিল পুলিশ। পরে আর কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান বকুল ও ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। তারা অবৈধভাবে পুকুর খননে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। দলীয় প্রভাবের কারণে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। মৌখিকভাবে বলে দিয়েছি ওই দুজন যেন দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ না নেয়। আমরা পুলিশকেও বলেছি তাদের যেন গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদেরই বলছে যে, কোথায় আছে আমাদের জানাতে হবে। এটা তো পুলিশের কাজ। কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না তা পুলিশই বলতে পারবে। গ্রেপ্তার না করার পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। এটা আমি মুখে বলতে চাচ্ছি না। বুঝে নেন। গ্রেপ্তার করলে তো সব শেষ হয়ে গেল।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘আমরা ভেকু চালককে ঘটনার পর আটক করেছিলাম। তারপর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চেষ্টা আছে। আশা করছি, দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে খবর দিতে পারব।’