ঈদগাঁও ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন ভন্ডুলের ষড়যন্ত্র

এফএনএস (রেজাউল করিম; ঈদগাঁও, কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ঈদগাঁও ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন ভন্ডুলের ষড়যন্ত্র

ঈদগাঁও উপজেলার শাহ ফকির বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও আসন্ন নির্বাচন বানচালের অভিযোগ উঠেছে। সমিতির কতিপয় সদস্য অন্তর্ঘাতমূলক এ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। নির্বাচনকালীন এ কমিটি সমিতির যাবতীয় হিসাব নিকাশ প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেও সভাপতির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ আনা হচ্ছে । এতে নির্বাচনী পরিবেশ নাজুক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে শাহ ফকির বাজারে স্থায়ী কার্যালয়ে এমনই কথা জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির অধিকাংশ  সদস্য।  এতে উপস্থিত ছিলেন সদস্য সচিব মোঃ নাঈমুল ইসলাম এমইউপি, সদস্য যথাক্রমে মোজাহের আহমদ, মাস্টার নুরুল আমিন, এম, জিয়াউল হক ও জয়নাল আবেদীন। তারা সাংবাদিকদেরকে জানায়,  মেয়াদ উত্তীর্ণ নির্বাচিত কমিটির কাছ থেকে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর ৭ সদস্য বিশিষ্ট এ অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি দায়িত্বভার গ্রহণ করে। কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে।  নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী তিন বছর মেয়াদী নতুন কমিটি উপহার দেয়য়াই অন্তর্বর্তী কমিটির প্রধান কাজ। এ সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে। কমিটির সদস্য সচিব জানান, নির্বাচনকালীন কমিটির সভাপতিকে কেন্দ্র করে মহল বিশেষ নানা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী কমিটি সদ্য বিদায়ী কমিটির কাছ থেকে যাবতীয় হিসাব নিকাশ গ্রহণ করে তা প্রকাশ্যে এনেছেন। সভাপতিকে কেন্দ্র করে এতসব বিতর্ক সৃষ্টি করা হলেও এক্ষেত্রে তার কোন বক্তব্য নেয়া হয়নি। কিংবা তাকে তাকে আত্ম পক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। একতরফা ও মনগড়া ভাবে কুৎসা রটানো হচ্ছে। অথচ জেলা সমবায় অফিসের কাছে  বিবদমান উভয় পক্ষ আবেদন করলে জেলা সমবায় কর্মকর্তা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দিদারকে সভাপতির এ দায়িত্বভার প্রদান করেন। তাদের মতে,  অন্তর্বর্তী কমিটি সমবায় সমিতির বিদ্যমান নীতিমালা অনুসারে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে । আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে সম্ভাব্য এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সদস্য সচিব আরো বলেন, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সমিতির বিশেষ সাধারণ সভায় নির্বাচনের তারিখ ও যাবতীয় হিসাব প্রকাশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বাজারের আলম মার্কেটে ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারীদের একাংশ ঐ সডায় উপস্থিতও ছিলেন । তবে মূল প্রতিবাদকারী উপস্থিত ছিলেন না।  নির্বাচনকালীন কমিটির উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইচ্ছুক কয়েকজন অহেতুক এ প্রপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছে। ২০২৪ সালেও এ সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হয়েছিল। সে সময়ও তারা নানা ষড়যন্ত্র করেছিল সদস্যরা অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত এবং গঠিত অন্তর্বর্তী কমিটিকে বিতর্কিত করার হীন উদ্দেশ্যেই এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গোটা সমিতি নয়, সমিতির একটি অংশ এ অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। ২০২৪ সালেও এ সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হয়েছিল। নির্ধারিত সে নির্বাচন বানচাল করতেও এমন ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এখন তারা আবারও মাঠে নেমেছে।  আমরা সমিতির বাই'ল অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আগের নির্বাচন নিয়ে মামলাও হয়েছিল। তিন বছর আট মাস চলে গেলেও যথাসময়ে সমিতির নির্বাচন হয়নি। তখনো তারা গ্রুপিং সৃষ্টিতে ব্যস্ত ছিল। আগের কমিটিকে দায়ভার না দিয়ে তারা আমাদের উপর কেন এ অভিযোগ আনছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমাদের মূল কাজ নির্বাচনের আয়োজন করা কারো পক্ষপাতিত্ব কিংবা অন্য কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। উপস্থিত সদস্য মোজাহের আহমদ জানান, এ বাজারের গোড়াপত্তন ও প্রতিষ্ঠা মূলত তাদেরই হাত ধরে হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে এ সমিতির সদস্য সংখ্যা ৫৩৯ জন। মোট ভোটার হচ্ছে ৩৫৭ জন। সর্বশেষ নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল তিন শতাধিক।