শ্বাসরূদ্ধকর অভিযানে সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ডাকাত দলের হাতে জিম্মি থাকা পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ বনদস্যু মাসুম বাহিনীর ৫ সদস্যসহ ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত বনদস্যু মাসুম বাহিনীর সদস্যরা হচ্ছে-কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮) ও অয়ন কুন্ডু (৩০) ও এবং ডাকাত সরদার মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫)। কোস্টগার্ডের সূত্র জানান, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটযোগে ভ্রমণকালে পাঁচ পর্যটক, এক মাঝি ও রিসোর্ট মালিকসহ সাত জনকে মাসুম মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি ডাকাত দল ধরে নিয়ে জিম্মি করে। ডাকাত দল তিন পর্যটক ও মাঝিকে মুক্তি দিলেও দুই পর্যটক ও গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি অবস্থায় সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ দাবি করে। পরে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানায়। কোস্টগার্ডের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। অভিযান চলাকালীন গত ৩ জানুয়ারি ডাকাত মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪) ও মেহেদী হাসানকে (১৯) সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে রোববার সুন্দরবনের কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে ডাকাত সহযোগী আলম মাতব্বরকে (৩৮) আটক করা হয়। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা হতে গোয়েন্দা নজরদারি ও তাদের লেনদেন অনুসরণ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি (৫৫) ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে (৩০) নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ আটক করা হয়। এরপর রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা হতে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে জিম্মি দুই পর্যটক এবং গোলকানন রিসোর্টের মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে প্রধান ডাকাত মাসুম মৃধাকে আটকের নিমিত্তে কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল- হক আরও বলেন, উদ্ধার পর্যটকদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আটক করা ডাকাত সহযোগীদের থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকসহ সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। এ ব্যাপারে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই অপহ্নতদের উদ্ধারে কোষ্টগার্ড, নৌ পুলিশ এবং আমাদের পক্ষ থেকে সমন্বিত জোর অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের ছেলে শান্তনু বাছাড় বাদি হয়ে আজ রোববার দাকোপ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় বনদস্যুেদর নাম উল্লেখসহ ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ করা হয়েছে।