লক্ষ্ণীপুরের রামগঞ্জে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার মাস বয়সী এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে রামগঞ্জ পৌরসভার ৭ নম্বর টামটা ওয়ার্ডের নরিমপুর এলাকার ইয়াছিন মজুমদার বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত এবং একটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে খাবার শেষে দুলালের স্ত্রী বাড়ির বাইরে কাপড় আনতে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন ঘরের ভেতরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে ঘুমিয়ে থাকা চার মাস বয়সী শিশু আয়াতকে উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্বজনরা। ফলে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দ্রুত তা পার্শ্ববর্তী শহীদের বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুটি ঘর মালামালসহ পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং পাশের আরেকটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। আগুন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তবে আগুনের তীব্রতায় ঘরের ভেতরে থাকা শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা আরও জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের ভেতরে থাকা কাপড়চোপড়, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় শিশুটি ঘরের ভেতরেই ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই ঘটে যায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনা। নিহত শিশুটির বাবা দুলাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সব শেষ হয়ে গেছে। ঘর গেছে, জিনিস গেছে-সবচেয়ে বড় কথা আমার সন্তানটা চলে গেছে। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রতিবেশী ও স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনেকেই আগুন লাগার কারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘর অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "অগ্নিকাণ্ডে চার মাস বয়সী একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। এদিকে অবুঝ শিশুটিকে হারিয়ে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।