প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, আমরা মনে করি খুব ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। বর্তমানে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই চলছে। পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। আমরা মনে করি এখনো যথেষ্ট ভালো পরিবেশ রয়েছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচনের আমেজ আমরা সব জায়গায় দেখছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দুই একজন দুই একটা কথা বলেন। কিন্তু আমরা দৃশ্যমান এমন কিছু দেখছি না যে কেউ বলতে পারেন যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। আমরা মনে করছি পুরোপুরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। এটি ছোট পার্টির জন্য যেরকম বড় পার্টির জন্য একই রকম আছে। আজ শুক্রবার সকালে নগরীর এবি গুহ রোডে শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে একটি দলের প্রতি ঝুকে পড়েছে এমন অভিযোগ অনেকে করছেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, কোন দলের বা কারো প্রতি ঝুঁকে পড়েনি। কেউ কেউ হয়তোবা ভাবছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার পরে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে ঐটাকে দেখে অনেকে অন্যরকম ভাবছেন। সতিকার অর্থে উনি জাতীয় নেত্রী ছিলেন। উনি শুধুমাত্র বিএনপির নেত্রী না। উনি সমস্ত বাংলাদেশের নেত্রী। সেজন্য জাতীয় শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং অনেকে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করে আসছেন এটা দেখে দু-একজন এ ধরণের কথা বলছেন। তিনি বলেন, আমরা আবারো বলি এই নির্বাচনের আগে আমরা লেভেল ফিল্ড করার জন্য যা যা করণীয় সব কিছু করা হচ্ছে। কোন ধরণের পক্ষপাতিত্ব কারো জন্য করা হয়নি। বড় দল হোক ছোট দল হোক সবার জন্য প্লাটফর্মটা সমান। তিনি বলেন, প্রায় পৌনে তিনশ বছর আগের শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শন করেছি। এখানে বাংলাদেশের ফেমাস এজন্য যে, এখানে যে দুর্গাপূজাটা হয় এটার পুরোটা আয়োজন করে নারীরা। এখানে পুরুষদের কোন ধরনের ইনভলমেন্ট থাকে না। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। নির্বাচনে যেন আমরা সবাই ভালো ভোট দিতে পারি। আমি মুসলমান বলে ভালো ভোট দিতে পারবো, আরেকজন দিতে পারবে না তাতো না। আমি আমার নৃ-গোষ্ঠি, সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ভাইবোন এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না আমরা সব ভাইবোন মিলেইতো একটা ভালো নির্বাচন চাই। নুতন বাংলাদেশ চাই। সেটায় দুইটা ইলেকশন আছে-একটা সংসদ নির্বাচন এবং আরেকটা গণভোট। আমরা চই দল-মত নির্বিশেষে আমরা গণভোটে হা ভোট দেব। হা ভোট দেব এই জন্য যাতে বাংলাদেশে আর কোন ফ্যাসিস্টের কোন রাজত্ব কায়েম না হয়। বাংলাদেশে যেন আপনার আমার অধিকার সবসময় অক্ষুণ্ন থাকে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মো. শফিকুল আলম নগরীর জুবলী রোডে বুড়া পীরের মাজার ও গতবছর ভাংচুরের ও হামলার শিকার হওয়া নগরীর থানা ঘাট এলাকায় হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ'র (রহ) মাজার পরিদর্শন করেন। সকাল ১০ টায় বুড়া পীরের মাজার পরিদর্শনের পর গত বছর জানুয়ারি মাসে হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ'র (রহ) মাজারে বাৎসরিক ওরস শরীফ ও সামা কাওয়ালী চলাকালে হামলা ভাংচুর হওয়া মাজার পরিদর্শন শেষে মোনাজাত করেন। পরিদর্শন শেষে প্রেষ সচিব জানান, বাংলাদেশ পীর আওলীয়ার দেশ, ইসলাম এসেছে তাদের হাত ধরেই। কেউ কেউ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে। এগুলোর তীব্র নিন্দা জানানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, এই দেশ সকল ধর্ম বর্ণ মানুষের দেশ, সম্প্রীতির দেশ। সবাই মিলেই আমরা। আমার এক বাংলাদেশ, উনার এক বাংলাদেশ, আপনার এক বাংলাদেশ সবার বাংলাদেশ মিলেই বাংলাদেশ। আমার বাংলাদেশকে যেমন সম্মান দেওয়া উচিত, আপনার বাংলাদেশকেও আমার সম্মান দেওয়া উচিত। আপানার মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ সবাইকে আমার সম্মান করা উচিত। আপনারও আমার মতবাদকে সম্মান করা উচিত। আপনার ওখানে যেতে ভালো লাগে না, যাবেন না। কিন্তু এটার বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমন করা এটা তো খুব ভয়ানক। আমরা এটার নিন্দা জানাই। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এগুলো যতদুর পারা যায় ঠেকাতে। তারপরও অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ পীর আওলীয়ার দেশ এটার উপর আক্রমন খুই দুর্ভাগ্যজনক। এটা চিন্তাই করা যায় না। আপনার পছন্দ না হয় যাবেন না কিন্তু সবাইকে সম্মান করতে হবে। মাজারের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আগের চেয়ে পুলিশের মনোবল বেড়েছে। মাজারে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, মানুষও সচেতন হচ্ছে।