দুর্র্ধষ মোটর সাইকেল চোর ও মাদক পাচারকারী রোহিঙ্গা ফয়সাল (৩৫) আবারো সাতকানিয়া থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেছে। জুমাবার (৯ জানুয়ারী) তাকে আদালতে প্রেরণ করে বিজ্ঞ আদালত। এর আগে ৮ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত ৮ টা ৩০ মিনিটের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ হতে চোরাই মোটর সাইকেলসহ তাকে আটক করে সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি টিম। ধৃত ফয়সাল মিয়ানমারের নাগরিক দিল মুহাম্মদের পুত্র। তারা সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণতোয়া গ্রামে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশাল পাহাড়ী এলাকা উজাড় করে রোহিঙ্গা পাড়া গড়ে তুলেছে। দিল মুহাম্মদ সেই সমাজের সরদার। উক্ত সমাজে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা বসবাস করে। তাদের অনেকেই ভুয়া তথ্য ও জাল ডকুমেন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দালালের সহায়তায় বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করেছে। দিল মুহাম্মদের পরিবারেই আছে ৫ টি ভুয়া এনআইডি।নিজের নামে এবং মেয়ে দিলদার বেগম, ছেলে ছিদ্দিক ও আবু বকর এবং ছিদ্দিকের স্ত্রী দিলুয়ারা বেগমের নামে ভুয়া এনআইডি তৈরির পর এবার নিজের স্ত্রী নরকিব খাতুন এবং পুত্র ফয়সাল ও সাদেকের এনআইডি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দিল মুহাম্মদের অপর কন্যা রোজিনা আকতার মুন্নিকে ছদাহার এক পরিবারে বিয়ে দেয়া হয়েছে। কনিষ্ঠ ছেলে সাদেকও ছদাহা হাসমতের দোকান এলাকার এক পরিবারে সম্প্রতি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। এভাবে রোহিঙ্গারা সাতকানিয়ার মূল জনগোষ্ঠীতে ঠাঁই করে নিচ্ছে। দিল মুহাম্মদের জন্ম মিয়ানমারের বুচিদং এলাকায়। সেখান থেকে প্রথমে তারা বাংলাদেশের উখিয়া-টেকনাফে চলে আসে। বালুখালী এলাকায় কিছুদিন থাকার পর তারা চলে আসে সাতকানিয়ায়। হরিণতোয়ার সরকারি পাহাড় উজাড় করে গড়ে তোলে রোহিঙ্গা পল্লী। সেখানে তারা মিয়ানমারের প্রচুর নাগরিক নিয়ে আসে। তারা চুরি, মাদক পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছে। তাদের কারণে হরিণতোয়া এখন অপরাধপ্রবণ জনপদে রূপ নিয়েছে। থানা সদর হতে দূরে পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় পুলিশের স্বাভাবিক নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা নির্বিঘ্নে অপরাধকর্ম পরিচালনা করে। বিভিন্ন এলাকার অনেক পলাতক দাগী আসামী এখন উক্ত এলাকায় নিরাপদে বসবাস করছে। দিল মুহাম্মদের পুত্র ফয়সাল আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং বান্দরবান জেলায় সে নিয়মিত চুরি ও মাদক পাচার করে। বান্দরবান সদর থানায় একবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। কিছুদিন আগেও সে সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া ডেলিপাড়া মসজিদের ইমাম হাফেজ তওফিকের বাইক চুরি করেছে। হরিণতোয়ার সাজ্জাদ নামের একজনের অটো রিকশা চুরির অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সে কেরানিহাট এলাকার জাবেদ নামের একজনের মালিকানাধীন একটি মোটর সাইকেল চুরি করে। গাড়ীটি কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসীন ব্যবহার করতেন। গাড়ী চুরির বিষয়ে মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চোর শনাক্ত করে টেকনাফ এলাকা হতে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত হতে মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল হক বলেন, মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় ফয়সাল নামক একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার হেফাজত হতে মোটর সাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। চোর চক্রের বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।