বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্য মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার নির্বাচনি পথের জট খুলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে এই সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তি থাকায় মান্নার আপিল গ্রহণ করা হয়েছে এবং মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসক ও বগুড়া-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। সে সময় হলফনামায় তথ্যের গড়মিল, ফৌজদারি মামলার তথ্য উল্লেখ না করা, নোটারি পাবলিক ও প্রার্থীর স্বাক্ষরের তারিখের অসামঞ্জস্য এবং সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল না করার বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়।
রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, হলফনামায় নোটারি পাবলিকের স্বাক্ষরের তারিখ ছিল ২৮ ডিসেম্বর, আর প্রার্থীর স্বাক্ষরের তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এই একদিনের ব্যবধানকে অসংগতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে আপিল শুনানিতে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন বৈধ বলে রায় দেয়।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “মনোনয়ন বাতিলের পেছনে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। আমি প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার বিশ্বাস ছিল, এই ষড়যন্ত্র টিকবে না।”
তিনি বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া নয়, বরং ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। আইন অনুযায়ী হলফনামায় ভুল থাকলে সম্পূরক হলফনামা দেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, “আমার বিরুদ্ধে খেলাপি হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েন।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তার শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন মান্না।
উল্লেখ্য, ঋণখেলাপির অভিযোগে এক পর্যায়ে মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত সেই বিষয়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ায় তার আইনি বাধা আগেই কেটে যায়।