গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত জনমত গড়ে তুলতে আসনভিত্তিক আলাদা কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যেসব সংসদীয় আসনে দলটির নিজস্ব প্রার্থী রয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নেতৃত্বেই গণভোটের প্রচারণা চলবে। আর যেখানে এনসিপির প্রার্থী নেই, সেসব আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে ২৭০ জন অ্যাম্বাসেডর বা প্রতিনিধি নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক বার্তায় এনসিপি এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রার্থী থাকা আসনগুলোতে স্থানীয় প্রার্থী সরাসরি দলীয় কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রচারণার মূল দায়িত্ব পালন করবেন।
এনসিপি জানায়, যেসব আসনে দলীয় প্রার্থী নেই, সেখানে নিয়োজিত অ্যাম্বাসেডররা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবেন। গণভোটের গুরুত্ব, এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরাই হবে তাদের মূল কাজ। এই পুরো কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
দলীয় সূত্র জানায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রার্থী থাকুক বা না থাকুক, সব আসনেই এনসিপির অবস্থান ও বার্তা স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এতে গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে একটি সমন্বিত ও সর্বব্যাপী প্রচারণা গড়ে উঠবে বলে আশা করছে দলটি।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে এনসিপি। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, গণভোটের প্রচারণা, মাঠপর্যায়ের সমন্বয়, মিডিয়া কার্যক্রম এবং মনিটরিং আরও কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন ৩১ সদস্যের নতুন এই কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এবং সেক্রেটারির দায়িত্ব পেয়েছেন মনিরা শারমিন।
এনসিপির নেতারা মনে করছেন, পরিকল্পিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোট নিয়ে জনসচেতনতা বাড়বে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে শক্ত জনমত তৈরি করা সম্ভব হবে।