মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সশস্ত্র সংঘাতের জেরে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গুলিতে আহত টেকনাফের এক শিশু এখনো বেঁচে আছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তে শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার থেকে শিশুটিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছায়। হাসপাতালের মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শিশুটিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায়। একই দিন সকালে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি সীমান্তের ভেতরে একটি বসতঘরে এসে লাগে। এতে ওই ঘরে থাকা বাংলাদেশি শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়।
শুরুর দিকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ও স্থানীয় লোকজনও প্রথমে বিষয়টি নিশ্চিত ধরে নেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, শিশুটি বেঁচে আছে। খবরটি নিশ্চিত হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, “সংঘর্ষের সময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া গুলি সীমান্তের বাংলাদেশি একটি বসতঘরে আঘাত হানে। এতে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শুরুতে মারা গেছে বলে প্রচার হলেও পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আহত শিশুটিকে প্রথমে কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। রোববার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে মিয়ানমারের ভেতরের সংঘর্ষে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ জন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। বিজিবি ও পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘর্ষের কারণে ওই রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, শিশুটির মৃত্যুর গুজবে সৃষ্ট উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, “শিশুটি মারা যায়নি, এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর সবাই শান্ত হয়েছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।”