জনদূর্ভোগ নিরসনে গুরুত্ব দিতে হবে

এফএনএস
| আপডেট: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম | প্রকাশ: ১২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
জনদূর্ভোগ নিরসনে গুরুত্ব দিতে হবে

দেশে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান এ সংকটের দ্রুতই কোনো সমাধান নেই। গ্যাস সংকটে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তিতাসের পাইপলাইনের গ্যাস সংকট এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার সরবরাহে কারসাজি হওয়ায় অনেক বাসাবাড়িতে ঠিকমতো রান্নাবান্না হচ্ছে না। শুধু বাসাবাড়িতেই নয়, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে গ্যাস সংকট ততই বাড়ছে। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস কখন পাওয়া যাবে তা কেউ বলতে পারছেন না।  পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ হওয়ার পর রান্নার কাজে বিকল্প হয়ে উঠেছে এলপিজি। এই গ্যাস এখন সাধারণ মানুষের কাছে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এলপিজি নিয়ে দেশে যে অস্থিরতা চলছে, তা কেবল অনভিপ্রেতই নয়; চরম উদ্বেগজনকও বটে। এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট বিইআরসির আশ্বাসে প্রত্যাহার করা হলেও বাজারে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি। ধর্মঘট প্রত্যাহারের আগে ব্যবসায়ীরা অভিযান বন্ধ এবং কমিশন বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন, কিন্তু সাধারণ ভোক্তার পকেট কাটার যে উৎসব চলছে, তা বন্ধের বিষয়ে কোনো কার্যকর অঙ্গীকার মেলেনি। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই চেইন অব কমান্ডের গলদ কোথায়, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। দেশে এলপিজির এ সংকট আকস্মিকভাবে তৈরি বরং দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি বৃদ্ধির অনুমোদন না পাওয়া, বিশ্ববাজারে এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আমদানিতে অপারেটর সংকট এবং বাজারে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে প্রতি বছর যে পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয় তার প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য। প্রতি মাসে দেশের বাজারে গড়ে ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ হয়। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, শ্রীলংকা, ভারতের ওড়িশার ধামরা সমুদ্রবন্দর দিয়ে অন্তত ৭০ হাজার টন গ্যাস আমদানি হয়। আর বাকি ৫০ হাজার টন বিশ্বের বিভিন্ন অপারেটর ও বন্দর হয়ে ইরান থেকে আসার কথা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের এলপি গ্যাস খাতের প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইরান থেকে আমদানি হওয়া গ্যাস বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বিকল্প সরবরাহকারী এবং দেশের বাজারে ৫০ হাজার টন এলপিজির বিকল্প উৎস তৈরি না হলে সামনের দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আমদানিকারকদের। এলপিজিুসংকটের সমাধান কেবল ভ্যাট কমানো বা ধর্মঘট প্রত্যাহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরবরাহব্যবস্থা। আমদানির অনুমতি দ্রুত দেওয়া এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত জোগান বাড়ানোই এখন প্রধান কাজ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে