বিএনপির চেয়ারপার্সন বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার সর্বত্র পর্যায়ক্রমে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১২ জানুয়ারি সোমবার দিনব্যাপী বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার বারিষাব ইউনিয়ন গাওরার ৪নং ওয়ার্ড কৃষকদলের উদ্যোগে দুলালপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে দোয়া প্রার্থনা করেন গাজীপুর-৪, কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান। এতে এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জালাল উদ্দিন দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন।
সাধারণ সম্পাদকের পরিচালনায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মজিবুর রহমান টিক্কা, বারিষাব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা কফিল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মাষ্টার প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, বারিষাব ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ ইকবাল হোসেন, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আল আমিন শ্যামল, প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন শিশির, ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ আ স ম হান্নান শাহ্ ও সহধর্মিণী, স্থানীয় প্রয়াত দলীয় নেতৃবৃন্দদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ আল আমিন। শেষে আগত অতিথিদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথি শাহ্ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, একটি ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখেন।
পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ সহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার মধ্যদিয়ে দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।
আমার পিতা মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহের প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা বিশ্বাস ছিলো। আপনাদের সাথে নিয়েই 'ফকির মজনু শাহ্ সেতু' সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিল। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেন নি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের দলীয় নেতা কর্মীদের উপর দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা, মামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনে বিএনপিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশ পরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহ রিয়াজুল হান্নান আগামী দিনের জন্য সবার কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার সংখ্যা বাড়ানো, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছোটখাটো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সাবলম্বী হতে পারবেন। তাতে জায়গা জমির দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা হবে। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।