বাজিতপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

এফএনএস (মহিউদ্দিন লিটন; হাওর অঞ্চল, কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
বাজিতপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলাটি একটি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলায় ১১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৭টি প্রধান শিক্ষকের পদ, সহকারী শিক্ষকের ৭৪টি এবং দপ্তরিক কাম, নৈশ্যপ্রহরি ২৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় এ প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদেরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কর্মরত শিক্ষকদের বাৎসরিক ছুটি, মাতৃকালীন ছুটি, পিটিআই প্রশিক্ষণ ও রিসোর্স সেন্টারে বিভিন্ন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হলে এসব বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সংকট হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠদান পাচ্ছে না। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শিফটে পাঠদান চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ সরকারি হিসাবে প্রধান শিক্ষকের শূণ্যপদ ৫৭টি এবং সহকারী শিক্ষক বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে প্রকৃত সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ১৩১টি। পাশাপাশি ২৪টি বিদ্যালয়ে দপ্তরিকাম নৈশ্যপ্রহরি না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা চরম ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। শহরাঞ্চলের বিদ্যালয় গুলোতে অবসরের পর দ্রুত শিক্ষক শূণ্যপদ পূরণ করা হলেও হাওর অঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে বছরের পর বছর ধরে এসব পদ শূন্যই থেকে যাচ্ছে। এতে করে হাওর অঞ্চল ও গ্রামীণ অবকাঠামোগত শিক্ষার্থীরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষকদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, শহর মুখী শিক্ষার্থীরা স্কুল গুলোতে শিক্ষা পাচ্ছে কিন্তু গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক না থাকার কারণে তারা প্রকৃত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজিতপুরে যোগদানের পর থেকে ১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। শিক্ষক সংকট কাটিয়ে গতি স্বাভাবিক রাখতে সকল অভিভাবকদের আহ্বায়ন। বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, অচিরেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে এর সমাধানের পথ বেড়িয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে