আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পাল্লা ভারী করে সুবিধা আদায়ের জন্য বিএনপি স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীদের দলে জায়গা দেয়নি। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশ এর উপর ভর করেছে। কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ দিইনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নিজ মেনিফেস্টো নিয়ে নির্বাচনে এগিয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পত্নীতলা উপজেলা বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় নজিপুর সরদার পাড়া মোড়ে পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন ৪৭, নওগাঁ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও তিন বারের সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খাঁন। মতবিনিময় সভায় পত্নীতলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আতাউর রহমান, সহ-সভাপতি হাসান শাহরিয়ার পল্লব, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদসহ পত্নীতলা ও ধামইরহাটের প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারী থেকে। আজকে আপনাদের এখানে ডাকা হয়েছে মুল্যবান পরামর্শ নেওয়ার জন্য। বিগত দিনে আমার জানা বা অজানা মতে দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা অনেক ভুলভ্রান্তি হয়েছে। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যাতে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে পারি আপনারা আজ আমাকে সেই পরামর্শ দিবেন। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি নির্বাচনে এমপি পদে জয়লাভ করলেও বিরোধী দলে থাকায় এলাকার মানুষের জন্য যে কমিটমেন্ট করেছিলাম তা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমি জনগণের জন্য যে ওয়াদা করেছিলাম এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি এবং প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী মানুষের জন্য কাজ করে যাবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শক্ত হাতে নেতা-কর্মীদের অনিয়ম দুর করেছি। এর ফাঁকে ২/১ জন কিছু অনিয়ম করেছে বলে জানতে পেরেছি। আগামীতে জননেতা তারেক জিয়ার নেতৃত্বে সকল অনিয়ম দুর করা হবে। আমার অঙ্গীকার হলো দুর্নীতি মুক্ত এলাকা। দলের বিভক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। প্রতিটি আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি। এবারের নির্বাচনে দল আমাকে যোগ্য মনে করে নমিনেশন দিয়েছে। তবে যারা নমিনেশন পায়নি তারা কিন্তু দলের বাহিরে নয়। মনোনয়ন প্রত্যাশি সকলের সাথে আমার ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ হয়েছে। নির্বাচনের প্রতারণা শুরু হলে তাঁরা ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নমিনেশন লাভের জন্য নেতাকর্মীদের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকলেও দলে এখন কোন বিভক্তি নেই। নজিপুর জেলা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ্ইচ্ছে ছিলো তিনি নিজে স্ব-শরীরে নজিপুর এসে ৪ জুন ১৯৮১ তারিখে নজিপুর কে সাব-ডিভিশন ঘোষণা করবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে তিনি ৩০মে শহীদ হোন। এরশাদ সরকারের আমলে পত্নীতলাবাসী নজিপুর কে সাব ডিভিশন করার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু সে সময় নওগাঁর মানুষের বিরোধীতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে তিনি পত্নীতলা, ধামইরহাট, সাপাহার ও পোরশা উপজেলা নিয়ে নজিপুর জেলা বাস্তবায়ন করার জোর চেষ্টা করবেন।