কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ঠান্ডা কালী বাড়ী মেলা আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও টেন্ডার ও প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই আগেভাগে মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের মোগরা গ্রামে, হাসানপুর রেলস্টেশনের পাশে অবস্থিত এই ঠান্ডা কালীবাড়ী মেলা নাঙ্গলকোট অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ঐতিহ্যবাহী মেলা হিসেবে পরিচিত। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এ মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামগুলোতে ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একসময় মেলাটি কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এটি হিন্দু-মুসলিমসহ সকল ধর্মাবলম্বীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে এ মেলায়। যদিও মূল মেলা একদিনের, তবে দুই দিন আগ থেকেই এবং মেলার পরবর্তী কয়েক দিন পর্যন্ত বেচাকেনা ও নানা আয়োজন চলতে থাকে। এ মেলাকে ঘিরে এলাকায় একটি সামাজিক রেওয়াজও প্রচলিত রয়েছে। এ উপলক্ষে জামাই ও মেয়েকে দাওয়াত দেওয়ার রীতি রয়েছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইকে উপহার দেওয়া হয় এবং জামাইরা মেলা থেকে বড় মাছ ও মিষ্টি কিনে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া সত্ত্বেও আগেভাগেই দোকান বসানো ও প্রস্তুতির কাজ শুরু হওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতি বছর মেলাকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু মহল জুয়া আসর বসানোর চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিজা আক্তার বিথী বলেন, ঠান্ডা কালীমেলার জন্য আমরা কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুমতির আবেদন পাঠিয়েছি। তবে এখনো কোনো ধরনের অনুমতি পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মেলার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।