খুলনার পাইকগাছায় দূর্বৃত্তরা রাস মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করছে। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো এক সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান। পূজারিরা সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালাতে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে বলে জানান মন্দির কমিটির সদস্যরা। মন্দিরের সভাপতি সন্তোষ কুমার সরদার বলেন, প্রতি বছর রাস উৎসবের পরে আমরা মন্দিরে প্রতিমা রেখে দিই। প্রতিমাটিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালানো হয়। সোমবার সন্ধ্যা প্রদিপ জ্বালাতে যেয়ে স্থানীয় জনৈক মিলনের মা প্রথমে তার নজরে আসে। তিনি দেখেন প্রতিমাটির বিভিন্ন অঙ্গহানি হয়েছে। মন্দিরটির ফটকে লোহার গ্রিল থাকলেও দুটো জানালা ফাঁকা ছিলো এবং ইং ২০২২ সাল থেকে মন্দিরটি নির্মাণ কাজ চলমান। যার পাশে ১৯৯৬ সালে আরও একটি মন্দির দেখা যায়। স্থাপনের পর থেকে এভাবেই প্রতিমা থাকে কিন্তু কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সন্তোষ সরদার মনে করেন রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নজরে আসা মাত্র আমরা পুলিশ প্রশাসনকে জানান। সন্তোষ কুমার সরদার আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দিরে রাধা গোবিন্দের দুটি মূর্তি অঙ্গহানী করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পৌরসভার আরো ছয়টি মন্দির কমিটির সভা হয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যেহেতু প্রতিমা ভাঙ্গাচুর করা হয়েছে আগামী বুধবার প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে দেবেন। এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মন্দিরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা জানান, অনতিবিলম্বে এই দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সচেতন মহল মনে করেন দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ভাবে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা রাজনৈতিক ইস্যু তৈরীর জন্য কোন দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে।