কিশোরগঞ্জে যুব প্রশিক্ষণের সমাপনী উপলক্ষে আলোচনা

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
কিশোরগঞ্জে যুব প্রশিক্ষণের সমাপনী উপলক্ষে আলোচনা

কিশোরগঞ্জের মহিনন্দে বেকার যুব-যুবতীদের আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ক ৭ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী উপলক্ষে আলোচনা, সম্মাননা, যুব প্রশিক্ষণ সেন্টার, শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।গতকাল সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের গোয়ালাপাড়ায় অবস্থিত মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ ও পাঠাগারের কার্যালয়ের সংলগ্ন যুব উন্নয়ন পরিষদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক  কথা সাহিতিক মোঃ রফিকুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর  উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম মিয়া, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামাল হোসেন, মো: শাহান শাহ ভুঁইয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন সেচ্ছাসেবী যুব কল্যাণ সংস্থা যুব উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো.আমিনুল হক সাদী। সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল, সাংবাদিক ও লেখক  মো. আসাদুজ্জামান আসাদ,সমাজকর্মী   মো. ফরহাদ ইসলাম, মুখানিভেতা রিফাত ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লিও ফরহাদ আহমেদ, মহিনন্দ তিন নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবুল, প্রশিক্ষিত যুবক মুস্তাফিজুর রহমান, সুমন আহমেদ প্রমুখ।  পরে প্রধান অতিথি বেকার যুব-যুবতীদের আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ক ৭ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী উপলক্ষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ভাতা বিতরণ করেন।  অনুষ্ঠানে সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় চার গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক  হিসেবে যোগদান করায় কথা সাহিতিক মোঃ রফিকুল ইসলাম শামীম,মহিনন্দ  ইউনিয়নের কৃতি সন্তান উদ্যোক্তা মো: মস্তোফা কামাল, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়,মহিনন্দ ইউনিয়নের গালিমগাজীর কৃতি সন্তান সাংবাদিক ও লেখক  মো. আসাদুজ্জামান আসাদ সাহিত্য সাংবাদিকতায় অবদান রাখায় ,মহিনন্দ  ইউনিয়নের চংশোলাকিয়ার কৃতি সন্তান সমাজকর্মী  মো. ফরহাদ ইসলাম সমাজসেবায় অবদান রাখায় মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার সম্মাননা স্মারক ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। পরিশেষে প্রধান অতিথি বেকার যুব সম্রদায়ের জন্য প্রশিক্ষণ সেন্টার, শিশু ও বয়স্কদের শিক্ষা কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা,যুব উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দ,প্রশিক্ষিত যুব ও যুব মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদীর প্রতিষ্ঠিত যুব পাঠাগারের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে পরিদর্শন বহিতে মন্তব্য লিখেন। এসময় তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষিত যুব সংগঠক সাদীর উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন এবং সব সময় পাশে থাকার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন। একই সাথে এমন মহতী কাজে স্থানীয়দেরকেও এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান করেন। অন্যন্য অতিথি গণও একমত পোষন করেন। প্রসংগত প্রশিক্ষিত সফল যুবক আমিনুল হক সাদী ২০১০ সালের ১০ মার্চ যুব উন্নয়ন পরিষদ নামে একটি যুব কল্যাণমূলক সামাজিক সংগঠন তৈরি করে দক্ষ যুব সংগঠক হিসেবে পরিচিত । যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২০ সালে এ সংগঠনকে নিবন্ধন দিলে তিনি আরো উৎসাহিত হন। এলাকায় তার যুব কর্মে উদ্বেলিত হয়ে আরো ১০টি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার যুবকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমে নিজ মহিনন্দ ইউনিয়ন, পরবর্তীতে সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন থেকে জেলা পর্যায়ে এমনকি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের থেকে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে পেয়েছেন সম্মাননার স্বীকৃতি।  তার এ সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সমাজকর্মী আমিনুল হক সাদীর সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবারাও কর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে আড়াই হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছেন। তন্মধ্যে ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলেছেন। সাদীর উদ্যোগে ও প্রচেষ্ঠায় এলাকার ১০জন বেকার যুবকের সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদেশে আরো ১০জন বেকারকে কর্মসংস্থানের সহযোহিতা করেছেন। যুব কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে উৎপ্রোতভাবে জড়িত থেকে বিরল অবদান রেখে আসছেন। সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাদী ও তার সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে