দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম ঘাটতি দেখিয়ে সস্তায় বিদেশি লবণ আমদানির মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। উপকুলবাসীর বেঁচে থাকার অন্যতম পেশা ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলা এই হঠকারী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। বুধবার (১৪ ই জানুয়ারি) সকাল ১১ টার সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ এর প্রধান বক্তা মহেশখালীর কৃতি সন্তান ও দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড.সলিমুল্লাহ খাঁন এ কথা বলেন । লবন চাষী, শ্রমিক, ভোক্তা ও ছাত্র-জনতা কক্সবাজার-চট্রগ্রাম জেলার উদ্যোগে কক্সবাজার চেম্বার এর সভাপতি সিআইপি আলহাজ্ব আব্দশু শুক্কুর সিআইপি এর সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে লবণ চাষীদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-২ এর সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, মহেশখালী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান, মহেশখালী সমিতি ঢাকা এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন, ছৈয়দুল করিম, জননেতা মৌলানা ওবায়দুল হক নদবি, লবণ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম, লবণ চাষী গিয়াস উদ্দিন, শাহাজাহান, সাজ্জাদ হেলাল উদ্দিন এ্যাডভোকেট রহিম উল্লাহ, লিয়াকত প্রমূখ। মানববন্ধনে শতাধিক লবণচাষি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতি-ঢাকা সমাবেশ ও মানব বন্ধনে একত্বতা প্রকাশ করে । মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও মহেশখালীসহ উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার লবণচাষি ইতোমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার অস্থিরতার কারণে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। এ সংকটময় সময়ে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তাদের জীবিকার ওপর নতুন করে সর্বনাশ নেমে আসবে। দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অর্থ হলো একটি নির্দিষ্ট আমদানিকারক গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা। এটি দেশের সাধারণ লবণ চাষি ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে চরম অবিচার। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে এক লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত বাতিল ও দেশীয় লবণ সংগ্রহ ও বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে এবং লবণ চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম ঘাটতি দেখিয়ে সস্তায় বিদেশি লবণ আমদানির মাধ্যমে দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ সরকারের শিল্প উপদেষ্ঠা ও বাণিজ্য উপদেষ্ঠাকে স্মারক লিপি পেশ করে লবণ আমদানী বন্ধের ও প্রান্তীক পর্যায়ে লবণের ন্যয্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবী জানালে উপদেষ্ঠাদ্বয় তৎক্ষনাত লবন আমদানির সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন।