ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে দাখিলকৃত মনোনয়ন যাচাই-বাছাইতে ৪৬ জনের মধ্যে ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। বাতিল হয় ১৫ জনের মনোনয়নপত্র। আর একজন প্রার্থী তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন। তবে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে গণফোরামের প্রার্থী অ্যাড. সেলিম আকবরসহ কয়েকজন প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। ৩ জানুয়ারি ২০২৬) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে মনোনয়ন ফরম বাছাই পর্ব সম্পন্ন হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এই বাছাই পর্ব সম্পন্ন করেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। আসছে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর পরই স্ব স্ব প্রার্থীগণ নিজ নিজ আসনে ভোট যুদ্ধে নেমে পড়বেন। ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচার কাজ চালাতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। এবার প্রার্থীদের পোস্টার পেপার থাকছে না। তবে ব্যানার ও লিফলেট থাকছে। সকল প্রার্থীদের ভোটার সংখ্যা অনুপাতে ২৫-৭৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবেন। চাঁদপুর জেলায় ৮টি উপজেলা,৭টি পৌরসভা, ৮৯টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ৩'শ ৬৫টি গ্রাম নিয়ে গঠিত চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসন। আসন গুলো হলো- ২৬০,কচুয়া-১ (কচুয়া), ২৬১,চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও মতলব- উত্তর), ২৬২,চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর), ২৬৩, চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) এবং ২৬৪, চাঁদপুর-৫ আসন (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সর্বশেষ হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় জেলার ৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা-২৩ লাখ ৩১ হাজার ২শ ৩৫ জন। এদের প্রায় অর্ধেকই মহিলা ভোটার। নারী ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮শ ৭৪ জন। পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ১ হাজার ৬শ ৪৪ জন। জেলায় হিজড়া ভোটার মাত্র ১১ জন। কেন্দ্র ৭শ ৬ টি। কক্ষ ৪ হাজার ২শ ৬০ টি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুরের পাঁচটি আসনে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীগণের নির্বাচনি মনোনয়নপত্রে দেখানো পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পদের বিবরণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের পাঁচজন এমপি প্রার্থীর মধ্যে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলনের পেশা হচ্ছে রাজনীতি। বাকী চারজন ড. জালাল উদ্দীন, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মো. হারুনুর রশিদ ও মমিনুল হকের পেশা ব্যবসা। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীগণের অধিকাংশই কোটিপতি। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীগণ হলেন পেশাজীবী। বিএনপির এক প্রার্থীর নগদ টাকা কম দেখালেও কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি রয়েছে তিনটি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিলন টকশো থেকে বছরে আয় দেড় লাখ টাকা। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানাগেছে। চাঁদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে।
চাঁদপুর-১ - কচুয়া আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আনম এহছানুল হক মিলন। পেশায় রাজনীতিক। তিনি নগদ ২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ২শ ৩৬ টাকার মালিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে বছরে আয় ৬ লাখ এবং টক শো থেকে আয় দেড় লাখ। আগেয়াস্ত্র আছে দ’ুটি। বিগত বছরে তার নামে মামলা ছিলো ১৯টি। সবগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসসি। একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুর আহমদ পেশায় শিক্ষক। তিনি নগদ ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৫শ ২৯ টাকার মালিক। শিক্ষকতা থেকে বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৫শ ২৯ টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল। চাঁদপুর-২ - মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ : এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো.জালাল উদ্দিন। পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি নগদ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮শ ৮০ টাকার মালিক। আগ্নেয়াস্ত্র আছে ১টি। গাড়ি আছে একটি লাইসেন্সকৃত। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৬ লাখ টাকা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল মোবিন। পেশায় চিকিৎসক। তিনি নগদ ১৬ লাখ ৬২ হাজার ২ শ ৮০ টাকার মালিক। আয়ের উৎস্য বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা সেবা। আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস। চাঁদপুর -৩ চাঁদপুর সদর-হাইমচর : আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত বছরে মামলায় হয় ৭টি। সবগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি নগদ ১ কোটি ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৩ শ ৮৭ টাকা। আয়ের উৎস্য ব্যবসা, স্ত্রীর আয় ও বাণিজ্যিক ভাড়া আদায়। আগ্নেয়াস্ত্র ২টি। একটি পিস্তল এবং একটি শর্টগান। গাড়ি একটি। যার অধিকগ্রহণ কালে মূল্য ১৪ লাখ টাকা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো.শাহজাহান মিয়া। পেশায় আইনজীবী। তিনি নগদ ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৭ টাকার মালিক। আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ, এলএলবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন শেখ ব্যবসায়ি,শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম। চাঁদপুর- ৪ ফরিদগঞ্জ : আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি লায়ন মো.হারুনুর রশিদ। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। নগদ ২৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯শ ৮২ টাকার মালিক। আগ্নেয়াস্ত্র নেই। গাড়ি তিনটি - টয়েটা ক্রাউন-মূল্য ৩১ লাখ, ল্যান্ড ক্রজার জীপ - মূল্য ৬৭ লাখ ও মাইক্রোবাস -মূল্য ২৭ লাখ টাকা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএ পাস। একই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির মো.বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। পেশায় শিক্ষক। নগদ ২০ হাজার টাকার মালিক। গাড়ি ১ টি। যার মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ-বিএড। স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নানের মামলা দুইটি (অব্যহতি প্রাপ্ত)।শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিএ ও পেশা ব্যবসায়ি। চাঁদপুর- ৫-হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি : আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো.মমিনুল হক। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। বিগত দিনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ছিলো ৪টি। দুটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি প্রত্যাহার করা হয়। নগদ আছে ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৯শ ২০ টাকা। মোটরসাইকেল আছে ১টি। যার মূল্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা-ইন-সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মো.আবুল হোসাইন। পেশায় তিনি শিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধে বিগত দিনে ১৩টি মামলা ছিলো। এসব মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। তিনি নগদ ১ লাখ টাকার মালিক। স্ত্রীর আছে ৫০ হাজার টাকা। যানবাহন ও আগ্নেয়াস্ত্র নেই। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল।