চরভদ্রাসন হাটে গলাকাটা টোল আদায়

এফএনএস (চরভদ্রাসন, ফরিদপুর) : | প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
চরভদ্রাসন হাটে গলাকাটা টোল আদায়

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা হাট-বাজারে দীর্ঘদিন ধরে গলাকাটা টোল আদায় করে চলেছে সাব-লীজ গ্রহিতারা। চরভদ্রাসন হাটের মূল ইজারাদার শেখ আলআমিন নিজে টোল আদায় না করে বিভিন্ন মালামালের হাটগুলো সাব-লীজ দিয়েছেন। আর সাবলীজ গ্রহিতারা সরকার নির্ধারিত টোল তালিকার অতিরিক্ত প্রায় চারগুন বৃদ্ধি হারে টোল আদায় করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই অতিরিক্ত টোল আদায়ের ফলে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা এবং হাট বিমূখ হচ্ছেন সাধারনরা। জানা যায়, হাট-বাজার ইজারা প্রদানের সরকারি নীতিমালায় সাব-লীজ দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তবুও উপজেলা সদর বাজারের বিভিন্ন মালামালের হাটগুলো পৃথকভাবে সাবলীজ দেওয়া হয়েছে। উক্ত বাজারের মূল ইজারাদার হচ্ছেন শেখ আলআমিন মোল্যা। তিনি বাজারের পেঁয়াজ হাটায় টোল আদায়ের জন্য সাবলীজ দিয়েছে ব্যাবসায়ী আবুল মোল্যার কাছে। কাচা মালের হাট ও তোহা বাজারে টোল আদায়ের জন্য সাবলীজ নিয়েছেন শেখ আব্দুৃস সালাম। এছাড়া বাজারের মাছ হাট আতা মৃধা ও রফিকুল ইসলাম, ভুষিমাল হাট কামাল শিকদার, মুরগী হাট মানিক শেখ, ধান হাট লিটন শেখ ও গুড় হাটা শাহজাহান মোল্যা সহ বিভিন্ন মালামালের হাটগুলো ব্যাবসায়ীরা সাবলীজ নিয়ে গলাকাটা টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে হাট ইজারাদার শেখ আলআমিন জানায়, “উপজেলা সদর হাট-বাজারটি আমি প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। শুধুমাত্র গরু হাটায় আমি নিজে টোল আদায় করে থাকি। অন্যান্য মালামালের হাটগুলোতে আমার ভাগিদাররা টোল আদায় করেন”। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, উপজেলা সদর হাটে প্রায় এক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী উক্ত হাটে কোথাও টোল তালিকা টানানো হয় নাই। হাটের মূল ইজারাদার প্রতিটি মালের বাজার পৃথকভাবে সাবলীজ প্রদান করেছেন। সাবলীজ গ্রহিতারা পৃথক মালামাল বাজারে টোল আদায়ের জন্য বিভিন্ন লোক নিয়োগ দিয়েছেন। তারা সরকারি নীতিমালা বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের মনগড়া হারে টোল আদায় করে চলেছেন। উক্ত হাটের পেঁয়াজ, বসুন, আলু ও মরিচ বাজারে কুইন্টাল প্রতি সরকার নির্ধারিত ১৬ টাকার স্থলে টোল আদায় করা হচ্ছে ৮০ টাকা, ধানের চারা বস্তা প্রতি ১০ টাকার স্থলে আদায় হচ্ছে ৮০ টাকা, সব্জি কুইন্টাল প্রতি ৮ টাকার স্থলে গৃহস্থ মাত্র একটি লাউ দোকানে টোল দিতে হচ্ছে ২০ টাকা, তোহা বাজারের কৃষকরা কিছু বড়ই বিক্রি করতে এসে প্রতিজনকে টোল দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা, খেজুর গুড় বিক্রেতাকে টোল দিতে হচ্ছে ১৫০ টাকা, পশুহাটে মুরগীতে টোল শতকরা ১০ টাকা, ছাগলের টোল হাজারে ১০০ টাকা, গরুতে হাজারে ৫০ টাকা, ফুটপাতের দোকানে শুধু চট বিছানোর জন্য ২০ টাকা ছাড়াও পৃথকভাবে মালামালের টোল আদায় করছে সাবলীজ গ্রহিতারা। এছাড়া ক্রেতা ও বিক্রেতা দুইজনের কাছ থেকে মালের আমদানী ও রফতানীর নাম করে দুই দফায় টোল আদায় করা হচ্ছে। একই সাথে হাটে মালামাল বহনকারী প্রতিটি গাড়ী থেকে ২০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উক্ত হাটের এক ক্রেতা সামচু বেপারী (৪২) জানায়, “দুই বস্তা ধানের চারা কিনে নগদ ১০০ টাকা খাজনা দিয়েছি, আবার যে কৃষক আমার কাছে চারা বিক্রি করেছে তার কাছ থেকেও আরেক দফায় খাজনা রাখা হয়েছে”। তোহা বাজারে এক কলা বিক্রেতা বিপ্লব সরকার (৩৫) জানায়, প্রতিটি ফুটপাতের দোকানের চট প্রতি দৈনিক ২০ টাকা টোলতো দিতেই হয়। এরপর মোকাম থেকে কিনে আনা কলার ক্যারেট প্রতি প্রায় ১০০ টাকা করে টোল নিয়ে থাকেন সাবলীজ গ্রহিতা শেখ সালামের লোকেরা”। ভিন্ন জেলায় থেকে হাটে আসা এক পেঁয়াজের বেপারী মনসুর পত্তনদার (৫০) বলেন, “ এই হাটে আগের মত এখন আর পেঁয়াজের আমদানী-রফতানী নেই। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারনে ক্রেতা বিক্রেতারা হাট বিমূখ হয়ে পড়ছেন”।  আর সাবলীজ প্রদানের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল উদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “হাট বাজার ইজারা প্রদানের নীতিমালায় মূল ইজারাদার কর্তৃক সাবলীজ দেওয়ার কোনো বিধান নাই। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে”।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে