তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় অসহায় দারিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। ঠিক তেমনি সময় হতদরিদ্র শীতার্ত মানুষের পাশে ফোকাস এইড সংগঠনের উদ্যোগে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এতিম, অসহায়, প্রতিবন্ধী, বাঘ বিধবা ও দরিদ্র শতাধিক পরিবারের মাঝে শীত বস্ত্র বিতারন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারী) বিকেল ৩টায় উপজেলার খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের মাঠ প্রাঙ্গণে শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতারন করা হয়। সেচ্ছ্বাসেবী সংগঠন ফোকাস এইডের সভাপতি রাসেল আহম্মেদের সভাপতিত্বে শীতবস্ত্র(কম্বল) বিতারণকালে প্রধান অতিথি হিসাবে কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী,বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জাবির,খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক এস.এম সাইফুল কবির, ফোকাস এইড এর সাধারণ সম্পাদক এস.এম মনিরুল ইসলাম, উম্মে হাবিবা, শেখ রবিউল ইসলাম, আল মামুন, উত্তম সহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন শীতবস্ত্র (কম্বল) নিতে আসা উপজেলার বাগালী এলাকার প্রতিবন্ধী অভিরন বিবি বলেন, অসহায় মানুষ আমরা। শীতে অনেক ঠান্ডা লাগে। কম্বল কোথায় পাব, তা জানা ছিল না। দুইদিন আগে রাতে এক লোক আমার বাসায় আসে আমাকে একটা আইডি কার্ড নেয়, তারপর আমাকে আসতে বলে, আমার কাছে এখানে আসার টাকা ছিলনা তারা একটা ভ্যান পাঠিয়ে দিলে আমি সহ আরও অনেকে আসে আর এখন আমি কম্বল পেয়েছি। এটি নিয়ে কিছুটা হলেও শান্তিতে থাকব। এভাবে এরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবে, তা কখনো ভাবিনি। ফোকাস এইড সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি রাসেল আহাম্মেদ জানান, শীতার্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করা মহৎ ও পুণ্যময় ইবাদত। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে দরিদ্র জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বিরূপ প্রভাব ফেলে, এসময় মানুষরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবারের অসহায়ত্বকে প্রকট করে তোলে। তাই শীতের শুরুতেই উপকূল ঘেঁষা অঞ্চালগুলোতে এতিম, অসহায়, প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র মানুষের শীত নিবারনে প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে কাজ করছে ফোকাস এইড। ঠিক একইভাবে উপজেলা প্রশাসনের মতই সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের সাহায্য ও সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেওয়া সহ শীতবস্ত্র বিতরণ করে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো দরকার বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কয়রায় শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি।অনেক দরিদ্র মানুষ প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করেন। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করবে।পর্যাক্রমে সব এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।