ঝিনাইদহ সদর উপজেলা থেকে উদ্ধার হওয়া মেছো বিড়ালটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। গত বুধবার দুপুরে নলডাঙ্গা বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা মেছো বিড়ালটি আটক করে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ অঞ্চলের ডেপুটি রেঞ্জার ওমর ফারুক, ট্রেনার আদনান মিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মেছো বিড়ালটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া মেছো বিড়ালটি যেন প্রকৃতির নিরাপদ আশ্রয় লাভ করতে পারে সেজন্য খুলনা বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের কাছে বৃহঃবার বিকালে হস্তান্তর করা হয়। খুলনা বন বিভাগের পক্ষে খুলনা বিভাগীর রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন,জুনিয়র ওয়ারলেস স্কাউট মোঃ শাহিন হোসেন ও ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম ৭ দিন বয়সী এই মেছো বিড়ালটি গ্রহন করেন। বাচ্চা মেছো বিড়ালটি খুলনা বন্য প্রানী ও প্রকৃতি সংরক্ষন বিভাগের দায়িত্বে থাকবে। খুলনা বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষন কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রাণিটির প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। কিন্তু অনেক এলাকায় এটিকে মেছোবাঘ নামেও ডাকে। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলে পালিয়ে যায়। তাই এটি নিয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাভূমির মাছ,ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে। জনবসতি স্থাপন,বন ও জলাভূমি ধ্বংস,পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে উপকারী এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। তিনি আরো বলেন, এই প্রাণীটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।