আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরের কর্মচারীদে পিটিয়ে জখম ও বেধে রেখে জাল টেনে মাছ নিয়ে গেছে ডাকাত দল। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে শ্রীউলার কাকড়াবুনিয়া বিলে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এব্যাপারে ঘের মালিক বাদী হয়ে থানায় লিখিত এজহার দাখিল করেছেন। ঘের মালিক গোদাড়া গ্রামের রজব আলী পাড়ের ছেলে জুলফিকা আলী বাদী হয়ে কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের মোস্তফা আকুঞ্জির ছেলে জহরুল আকুঞ্জি সহ অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামী করে দাখিলকৃত এজাহার সূত্রে জানাগেছে, কাকড়াবুনিয়া বিলে তার ৬০ বিঘা সম্পত্তির মৎস্য ঘের আছে। ঘেরে কর্মচারী রামদাশ সরকার, শহিদুল ইসলাম ও খোদা বক্স পাহারা দিত। ঘেরের ভিতরে ৬ বিঘা ও দেড় বিঘা দু'টি ভেটকি মাছের প্রজেক্টের পুকুর আছে। পুকুর দুইটিতে প্রায় ৫,০০,০০০ টাকার ভেটকি মাছ ছিল। পুকুর সংলগ্ন মূল বাসায় রামদাশ পাহারা দেয়। আসামীরা কয়েকমাস পূর্বে ঘের কর্মচারীদের নিকট ২,০০,০০০ টাকা চাঁদা দাবী করায় থানায় মামলা (নং-১২, তারিখ ২০/০৪/২০২৫) করি। মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে চলমান। আসামী জামিনে আসার পর বেপরোয়া হয়ে আমার এবং কর্মচারীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে। ঘেরকর্মচারী রামদাশ ঘটনার সময় প্রজেক্টটি পাহারা দিচ্ছিল। রাত্র ১.৩০ টার সময় এজাহার নামীয় আসামী সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা জিআই পাইপ, হাসুয়া দা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, টানাজাল ইত্যাদি নিয়ে প্রজেক্টে ঢ়ুকে টানা জাল দিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কর্মচারী রামদাশ টর্চ মেরে তাহাদের মধ্যে থেকে একজনকে চিনিতে পারে এবং মাছ ধরতে বাধা নিষেধ করায় তাকে এলোপাতাড়ী মারপিট করলে ফাটা থেতলানো জখম করে। হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারিতে গেলে মাথা সরাইয়া নেওয়ায় ডান চোখের উপরে কপালে লেগে কাটা জখম হয়। তাকে পিঠ মোড়া দিয়া বেধে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখে। আসামীরা টানা জাল দিয়ে দুইটি পুকুর হতে অনু: ১০০০ হাজার কেজি ভেটকি মাছ যাহার মূল্য ৫,০০,০০০ টাকা মেরে নেয়। একটি বাটন মোবাইল ফোন ও বাসায় থাকা মালামাল নিয়ে নেয়। কর্মচারী তাদের কথাবার্তা ও টর্চলাইটের আলোতে আসামী জহুরুল আকুঞ্জিকে চিনতে পারে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫.৩০ টায় পাশের ঘের মালিক আনারুল ইসলাম বাসার মধ্যে গুংরানোর শব্দ শুনে তাকে বাধা অবস্থায় পেয়ে চিৎকার চেচামেচি করলে স্বাক্ষীরা দেখতে পায়। তাকে জখম অবস্থায় আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, একটি এজহার পেয়েছি, তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।