দীর্ঘ ১৫ বছরের সীমাহীন কষ্ট ও অসহায় জীবনের পর মানবিক সহায়তায় একটি হুইলচেয়ার পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরী রিয়া খাতুন। নতুন করে চলার স্বপ্ন যেন তার চোখেমুখে ঝিলমিল করে ওঠে। অন্যদিকে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৬০ বছর বয়সী সানাউল্লাহ্। দীর্ঘদিনের অসহনীয় যন্ত্রণার মাঝে এ সহায়তা যেন তাঁর জীবনে এক টুকরো আশার আলো হয়ে আসে। হিউম্যানিটারিয়ান অর্গানাইজেশন ফর ওল্ড অ্যান্ড ডিস্ট্রেসড (একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান) এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৩০তম ব্যাচের উদ্যোগে নাটোরের লালপুর উপজেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহতসহ চারজন অসহায় ব্যক্তির মাঝে চারটি হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে লালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে সরাসরি অসহায় মানুষের হাতে এসব হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। হুইলচেয়ারপ্রাপ্তরা হলেন-দক্ষিণ লালপুর গ্রামের ইয়াসিন খামারুর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৬৫), শিবনগর গ্রামের মৃত দেদার হোসেনের ছেলে সানাউল্লাহ্ (৬০), জিল্লুর রহমানের শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে আরাফাত রহমান (১০) এবং নবীনগর গ্রামের মৃত রাহেদ আলীর কন্যা রিয়া খাতুন (১৫)। হুইলচেয়ার পেয়ে উপকারভোগীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি, আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে দোয়া করেন এই মানবিক সহায়তার জন্য এবং এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ্টেন মনিরুল ইসলাম পিন্টু, চিফ ইঞ্জিনিয়ার মুনতাসির মামুন মিঠু, মেরিনার মেহেদী হাসান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাফিজুর রহমান, কাউসার আলম মুকুল, শিক্ষক জালাল উদ্দিন বাবু, সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। চিফ ইঞ্জিনিয়ার মুনতাসির মামুন মিঠু বলেন, “বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৩০তম ব্যাচের পক্ষ থেকে এর আগেও নগদ অর্থসহ একাধিক হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।” এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।