বড়াল নদী পুনরুদ্ধারে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে চারঘাটে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) উপজেলার মডেল মসজিদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চারঘাট উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এশিয়া প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, জাতিসংঘ উন্নয়ন ও গবেষণা বিভাগের সাবেক প্রধান এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সহ-সভাপতি ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চারঘাট শাখার সাধারণ সম্পাদক সনি আজাদের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাপার সহ-সভাপতি, বেন এর বৈশ্বিক সমন্বয়ক ও যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান, বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, চারঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান মিজান, চারঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুরাদ পাশা, চারঘাট পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল সালেক আদিল, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আইয়ুব আলী, রাজশাহী জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “বড়াল নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি এই অঞ্চলের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দখল, দূষণ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে, না হলে নদী রক্ষা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “নদী পুনরুদ্ধারে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং ধারাবাহিক মনিটরিং জরুরি। কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে।”
বক্তারা বলেন, বড়াল নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে দখল উচ্ছেদ, দূষণ বন্ধ এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন ভয়েস কমিটির প্রতিনিধিরা, বাঘা বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বড়াল নদী পরিদর্শন করেন। বড়াল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।