মির্জাগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আখড়া

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
মির্জাগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আখড়া

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আধাপাকা দুইটি পরিত্যক্ত ভবন মাদক সেবীদের নিরাপদ আখড়া হিসেবে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ভবন দুটিতে একসময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দাপ্তরিক সকল কাজকর্ম পরিচালিত হলেও জমিদাতাদের কর্তৃক আদালতে মামলা দায়ের ও ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় দপ্তরটি ভাড়া বাসায় স্থানান্তর করায় ভবন দুটির দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় ভবন দুটির পাকা অবকাঠামো কঙ্কালে পরিনত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থাণীয়দের অভিযোগ - সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি না থাকায় মাদকের অর্থ যোগাতে একটি ভবনের দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়েছে মাদকসেবীরা। পরিত্যক্ত এ ভবন দুটিতে প্রায় প্রতি রাতেই মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসানোসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপও চলে। মাদক বেচাকেনার জন্যও নিরাপদ স্থান হিসেবে এই পরিত্যক্ত ভবন দুটিকে ব্যবহার করছে মাদক ক্রেতা - বিক্রেতারা। মাদকের আস্তানা ভেঙ্গে দিয়ে যুবসমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও স্থাণীয়রা। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদর সুবিদখালীতে অবস্থিত উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে পশ্চিম সুবিদখালী - বটতলা সড়কের পাশে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আধাপাকা ভবন দুইটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সীমানা প্রাচীর থাকলেও লোহার গেটের একটি দরজা ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। দরজা-জানালা ও ভবনের বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন না থাকায় আধাপাকা ভবন দুটির পাকা অবকাঠামো দুটি কঙ্কালে পরিনত হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিত্যক্ত এই ভবন দুটি কোনো কাজে আসছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। এই ভবনের প্রায় প্রত্যেকটি কক্ষে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের আলামত ও মাদক ব্যবহারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ সিগারেটের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভবন দুটির দরজা জানালার কোন অস্তিত্বই দেখা যায়নি। স্থাণীয়রা অভিযোগ করেন - পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষে ছেলে মেয়েদের বিভিন্ন অসামাজিক যৌন কার্যকলাপ ঘটে।  মাদকের অর্থ যোগাতে মাদকসেবীরা এই ভবনের দরজা-জানালা ও বারান্দার টিনের চালার অধিকাংশ টিন খুলে নিয়েছে। এছাড়াও প্রায় প্রতি রাতেই মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসানোসহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপও চলে এই পরিত্যক্ত ভবন দুটিতে। আর রাত হলেই দলবল নিয়ে ছুটে আসে মাদকসেবী ও বখাটেরা, প্রায় প্রতি রাতে মাদক ও জুয়ার আসর বসে এখানে। এমনকি মাদক বেচাকেনার জন্যও নিরাপদ স্পট এই স্থানটি, ভবন সংলগ্ন এই সড়কে দুপুর ২টা থেকে সাড়ে ৪টা-৫টা পর্যন্ত জনসমাগম কম থাকায় মাদক বেচাকেনার জন্য বিক্রেতা ও সেবনকারীরা নিরাপদ স্পট হিসেবে এই পরিত্যক্ত ভবন দুটির সুবিধামতো কক্ষ ব্যবহার করে বেচাকেনার কাজ করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে জানান, রাত হলেই দলবেঁধে এই ভবনে প্রবেশ করে মাদকসেবীরা। সীমানা প্রাচীর থাকলেও গেট না থাকার সুযোগে মাদকসেবীরা দলবল নিয়ে মূলফটক দিয়েই ভিতরে প্রবেশ করে আড্ডা বসিয়ে মাদক সেবন করে। মাদক সেবনের জন্য পরিত্যক্ত এই ভবন দুটি মাদকসেবীদের কাছে বেশ নিরাপদ স্থান। এ ছাড়াও পরিত্যক্ত ভবনের পশ্চিম দিকের নিরাপদ কক্ষে ছেলে মেয়েদের বিভিন্ন অসামাজিক যৌন কার্যকলাপ ঘটে। আবাসিক এলাকা হওয়ার এখানে সরকারী বেসরকারী চাকুরীজীবিদের ৬-৮টি পরিবারসহ স্থাণীয় প্রায় অর্ধশত পবিরারের বসবাস। মাদকসেবীদের মধ্যে ২/৪ জন মাদকসেবী যুবক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ার কারনে মানসম্মান ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে কিছু বলতে পারি না। এখানে মাদক সেবনসহ গুরুতর অপকর্ম দীর্ঘদিন ধরে চললেও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে সরকারী সম্পত্তি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিনত হতো না। সরকারী সম্পত্তি রক্ষা ও মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান পরিচালনার দাবী জানাই। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মির্জাগঞ্জ ফাউন্ডেশন এর সাবেক সাধারন সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আধাপাকা পরিত্যক্ত ভবন দুটি মাদক সেবীদের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে তা আমাদের কখনোই কাম্য নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আইন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল দেওয়াসহ অভিযান করে মাদকসেবী ও কারবারিদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি। মির্জাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিদা বেগম (অতিঃ দায়িত্ব) জানান, ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ার কারনে ২০২৪সালের মাঝামাঝি সময়ে অফিসটি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় স্থানাস্তর করা হয়। এছাড়াও পরিত্যক্ত ভবনটির জমির দাতাগণ জমির মালিকানা দাবী করে আদালতে মামলা করেন, আদালত থেকে আমাদের পক্ষে (মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর) রায় পেয়েছি। এটি সংস্কার বা পূণঃনির্মান করার জন্য পটুয়াখালী জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিত ভাবে জানিয়েছি। এছাড়া মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি কিছুদিন আগে জানতে পেরে উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক মিটিংয়ে উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনও স্যার এবং ওসি মহোদয়কে অনুরোধ জানিয়েছি। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আঃ ছালাম জানান, এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে থাকে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি, সরকারী পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডার বিষয়টি কোন তথ্য জানা নেই। যে কেউ তথ্য দিয়ে অবহিত করলে সাথে সাথে অভিযান পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ মলিহা খানম বলেন, সরকারী পরিত্যক্ত ভবনে মাদক সেবনের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মাদক সেবন করা হচ্ছে এ ধরনের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে