পুঠিয়ায় ১ শিক্ষক ২ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
পুঠিয়ায় ১ শিক্ষক ২ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ

পুঠিয়ায় এক শিক্ষক দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেলপুকুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক নুর মোহাম্মদ আগে চাকরি করতেন কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসা শিক্ষক হিসাবে। পরে বেলপুকুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়োগ নিয়ে এমপিও ভুক্ত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের তৃতীয় প্রভাষক হিসাবে লাবনী আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়  ১৮ মে ২০১৮ইং সালে। তখন একটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২৪ সেপ্টেম্বরে ২০১৭ইং সালে। সে সময়ে একাডেমিক নির্বাচনী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে লাবনী আক্তার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ১ম স্থান অধিকার করায়। নিয়োগ বোর্ড ও কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সুপারিশে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে ছিল। তারপর হতে লাবনী কর্মরত অবস্থায় রয়েছেন। সরকার পতনের পর কলেজের অধ্যক্ষ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির যোগসাজসে অবৈধ ভুয়া নিয়োগ দেয় নুর মোহাম্মদ নামের এক প্রভাষককে তার এমপিও ভুক্ত পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। কলেজের তৃতীয় শিক্ষকের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী লাবনী আক্তারের ইনডেক্স নং ৫৬৯২২৮৪৪। যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সে সম্পূর্ণ ভুয়া বানোয়াট নিয়োগ দিয়ে এমপিও ভুক্ত করা হয়েছে। কারণ সে ১৮-০৫-২০১৮ইং তারিখের নিয়োগ নির্বাচনী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে আর কোনো শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। লাবনী আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের ডিগ্রি পর্যায়ে বৈধ তৃতীয় প্রভাষক দাবি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক বরাবর  ১২ জানুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সে আরো বলেন, নুর মোহাম্মদের ভুয়া নিয়োগ ও এমপিও ভুক্তি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি তুলেছেন। একই শিক্ষক নূর মোহাম্মদ ইনিটিটিউশন নম্বর-৮৬০৯০৯২১০১ সদর ইউনিয়নের কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছে। এ বিষয়ে কান্দ্রা দাখিল মাদ্রাসায় সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, নুর মোহাম্মদের অক্টোবর মাসে পর্যন্ত এ মাদ্রাসা হতে বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। সে খাতা-কলমে শিক্ষক রয়েছেন। আমরা আগামীতে তার পরিবর্তে মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করব। বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রভাষক নুর মোহাম্মদের একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনের সংযোগ পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে বেলপুকুর আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ বলেন, লাবনী আক্তার সাত বছর যাবত ধরে কলেজে আসেননি। তাই কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি তার নিয়োগ বাতিল করে নূর  মোহাম্মদকে নতুন ভাবে নিয়োগ দিয়েছেন।