নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ নিহত ২ আহত ৩০

এফএনএস (মাইনুদ্দিন দুলাল; নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা) : | প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ  নিহত ২ আহত ৩০

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দু.গোষ্ঠীর  আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি সদস্য সালেহ আহমেদ (৬০) ও ব্রুনাই প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন নয়নকে (৩২) গুলি করে এবং  হাত ওপায়ের রগ কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার সকাল  ১১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । হত্যাকান্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় নিহতের স্বজনরা। এসময় হামলায় প্রায় ৩০ জন লোক আহত হয়েছে। আহতদের নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে নিহত নয়নের ভাগিনা রিয়াজের অবস্থা গুরুতর  বলে জানা গেছে। নিহত সাবেক মেম্বার সালেহ আহমেদ বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামের  মৃত  সালামত উল্লাহর ছেলে এবং ব্রুনাই প্রবাসী দেলোয়ার হোসেন নয়ন একই গ্রামের  আবুল খায়ের ছুট্টু মিয়ার ছেলে।  নিহত দু'জন আপন চাচা-ভাতিজা বলে জানা গেছে। নিহত নয়ন ১২দিন পূর্বে ব্রুনাই থেকে ৪বছর পর ছুটিতে দেশে আসেন। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গতবছরের ২৫ জুলাই  জমিতে গরু ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপ ও সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এতে অনেক লোক আহত হয়  এবং অনেক  বাড়িঘর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ৩ আগস্ট আলাউদ্দিন মেম্বারকে অপহরণ করে কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যার ঘটনার পর সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপ দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে বাহিরে অবস্থান করেন। ৩ জানুয়ারি সালেহ আহমেদ মেম্বার গ্রুপ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে আলাউদ্দিন মেম্বার গ্রুপের লোকজন বাধা প্রদান করেন। বাধা উপেক্ষা করে নিজ বাড়িতে গিয়ে তাবু টানিয়ে  বসবাস শুরু করে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ দু, গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।  নিহত দেলোয়ার হোসেন নয়নের বড় বোন হাজেরা আক্তার রিংকি ও নয়নের ছেলে ফয়সাল আহমেদ জয় বলেন, আমাদের বাড়িঘর সব জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই। তারপরও আমরা বাড়িতে গিয়ে তাবু টানিয়ে থাকতে  শুরু করি। শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিন মেম্বারের ছেলে রাজিম, আওয়ামীলীগ নেতা তোতা মিয়া, একই গ্রামের অনিক,বিপ্লব, শামছুউদ্দিন, সাইফুল, শেখ আহম্মেদ ও জিয়ার নেতৃত্বে ২ শতাধিক সন্ত্রাসী   আমাদের ওপর হামলা চালায়, এতে নয়ন ও সালেহ আহমেদ মেম্বার গুলিবিদ্ধ হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীরা তাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা ফারহানা ইসলাম বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে কয়েকজনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দু'জন  মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে, গুলিবিদ্ধ ও হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।  নাঙ্গলকোট থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এই মুহূর্তে আলিয়ারা গ্রাম মানবশূণ্য রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে