জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক হিসেবে একই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম স্থান অর্জন করেছে কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও এর দুইজন শিক্ষক। কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজনীন আক্তার কেয়া (জীববিজ্ঞান) শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান এই নির্বাচন সম্পন্ন করেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় নাজনীন আক্তার কেয়া বলেন, ‘আমাকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করায় আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত। এই স্বীকৃতি আমার শিক্ষকতা জীবনে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।’ তিনি এই অর্জনের পেছনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দিকনির্দেশনা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সবার সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমি এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি। এর আগেও আমি শ্রেষ্ঠ স্কাউট শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলাম।’বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং এই বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হওয়ায় আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’ পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় তালা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী, পুরোনো ও আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার মানের দিক থেকে এটি এলাকার অন্যান্য বিদ্যালয়ের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারণেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা ও আচরণগত শিক্ষাও নিশ্চিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল বরাবরই সন্তোষজনক। এ বছর বিদ্যালয় ও দুই জন শিক্ষক উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সম্মান শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।