বরিশাল-৫ আসনে ভোটের মাঠে তিন হেভিওয়েট প্রার্থী

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
বরিশাল-৫ আসনে ভোটের মাঠে তিন হেভিওয়েট প্রার্থী

ইসলামী সমমনা দলগুলোর জোট নিয়ে এতোদিন যে আলোচনা চলছিলো তার অবসান হয়েছে। ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ফলে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন নিয়ে যে ধোয়াশা ছিলো তার অবসান হয়েছে। বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে মর্যাদার বরিশাল-৫ (সদর) আসনে জোটের পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হবেন এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিলো ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সবার মধ্যে এক ধরণের ধোয়াশা তৈরী হয়েছিলো। শুরু থেকেই আসনটি চেয়েছিলো ইসলামী আন্দোলন। তাদের যুক্তি দলটির আমীরের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলায়। যে কারণে এ আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছাড় দেওয়া হবে। এমনকি কয়েকদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে দলের মনোনীত প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন-যেহেতু এটা আমীরের সিট সুতরাং অন্য কারো দাবী করাটাই অযৌক্তিক। জামায়াতের সাথে এনিয়ে এতোদিন অনেক দর কষাকষি হলেও সেপর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। এ আসনটি কোনভাবেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ছাড় দেবে না জামায়াতে ইসলামী। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনও বিভাগীয় সদরের আসন ছাড়তে নারাজ। এনিয়ে বনিবনা না হওয়ার কারণেই মূলত ভেতরে ভেতরে দ্বন্ধ শুরু হয় দুই দলের মধ্যে। কিন্তু এককভাবে প্রার্থী ঘোষণার পর সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন বরিশাল সদর আসনে নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। আগামী ২১ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আর ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ভোট। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, আগামী নির্বাচনে মর্যাদার এ আসনে হবে ত্রিমুখী লড়াই। কারণ এ আসনে বিএনপির শক্ত প্রার্থী হয়েছেন চারবারের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। প্রথমদিকে অনেকের ধারণা ছিলো জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মিলে যদি একক প্রার্থী দেওয়া হয় তাহলে সেটা বিএনপির প্রার্থীর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু জোট ভেঙে যাওয়ায় সেই চিন্তার কিছুটা হলেও অবসান হয়েছে। ফলে বরিশাল সদর আসনে তিনজন হেভিওয়েটের প্রার্থীর মধ্যে হতে পারে নির্বাচনী ত্রিমুখী লড়াই।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে