ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের বাদুল্ল্যা মাতুব্বর ডাঙ্গী গ্রামের কাজল খানের কিশোরী কন্যা চাঁদমনি (১৩)কে অপহরন করতে গিয়ে মারপিট, লুটপাট ও বসতবাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে স্থানীয় একটি বখাটে দল। গত শুক্রবার বিকেলে এলাকার চিহ্নিত বখাটে শামিম হোসেন মন্ডল (২৩), নোমান মন্ডল (২২), এনায়েত মন্ডল (২৪), জুনায়েদ মন্ডল (২১), স্বপন মন্ডল (২৫) ও রবিন হোসেন (২৩) সহ ১৪/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ছুরি, চাইনিজ কুড়াল, রাম দ্যা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে কিশোরীর বাড়ীতে মোট তিন দফায় সন্ত্রাসী হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। এতে কিশোরীর চাচা মামুন খান, ফুফু রেবেকা আক্তার, দাদী নুরুন্নাহার, ফুফাতো বোন ্এ্যানি আক্তার ও কিশোরীর নানী মর্জিনা বেগম আহত হয়। এ সময় বখাটেরা অস্ত্রর ভয় দেখিয়ে কিশোরীর পরিবারের স্বজনদের পরনের প্রায় ৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার সহ মোট সাড়ে ৯ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় বখাটে সন্ত্রাসীদের তান্ডবে কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা কোনো উপায় না পেয়ে জীবর রক্ষার্থে বসতীয় বিল্ডিং বাড়ীর ছাদে উঠে গেট বন্ধ করে রাখেন। পরে অবরুদ্ধ কিশোরীর পরিবার ত্রিপল নাইনে ফোন করলে চরভদ্রাসন থানা পুলিশ ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় বখাটেরা পুলিশের উপস্থিতি দেখে পালিয়ে যায়। এ ব্যপারে শনিবার বিকেলে চরভদ্রাসন থানায় কিশোরীর ফুফু রেবেকা আক্তার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। শনিবার চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, “উল্লেখিত বখাটেরা এলাকার দাঙ্গাবাজ দল। আসামী শামিম মন্ডলের নামে এর আগে আরও তিনটি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলাই মারামারির মামলা”। জানা যায়, কিশোরী চাঁদমনি বাড়ীর পাশে মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় নাজেরা শ্রেনীর ছাত্রী। তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে চাকুরী করেন। গত এক বছর ধরে মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে বখাটে শামিম মন্ডল কিশোরীকে উত্তোক্ত করে আসছিল। গত ১১ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় উক্ত কিশোরী রাস্তার পাশে বাড়ীর সামনে মূল গেটে দাড়িয়েছিল। এ সময় বখাটে শামিম মন্ডল মটর সাইকেল নিয়ে এসে কিশোরীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে কিশোরী বখাটের হাত থেকে ছুটে দৌড়ে বাড়ীর ভিতর গিয়ে গেট বন্ধ করে দেয়। প্রায় এক সপ্তাহ পরে ঘটনার দিন বিকেলে উক্ত কিশোরী বাড়ীর সামনে বেড়োলে এক মটর সাইকেলে ৪/৫জন বখাটে প্রত্যেকে হাতে করে বিভিন্ন প্রকার ফুল নিয়ে এসে কিশোরীকে ভাবীসাব বলে সম্বোধন করে ফুলের তোড়া এগিয়ে দিয়ে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বখাটে শামিম মন্ডল হাত ধরে টানাটানি করলে কিশোরীর চাচা মামুন খান এগিয়ে বাক বিতন্ডায় জড়ায় এবং সৌরচিৎকারে এলাকার লোকজন জড়োহলে বখাটেরা চলে যায়। কিন্ত কিছুক্ষন পর সন্ধার আগে ১৪/১৫ জনের বখাটে দল দেশীয় অস্ত্রসস ্ত্রনিয়ে কিশোরীর বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা, মারপিট, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়। পরিবারের সদস্যরা বিল্ডিংয়ের ছাদে পালিয়ে জীবন রক্ষা করে। পরে ত্রিপল নাইনে ফোন দিলে পুলিশ কিশোরীর বাড়ীতে ছুটে যায়। এ সময়ও বখাটেরা তৃতীয় দফায় কিশোরীর বাড়ীতে হামলা চালাতে এলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে বখাটেরা পালিয়ে যায়।