সাপাহারে মাদ্রাসা সুপারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

এফএনএস (মোঃ বাবুল আকতার; সাপাহার, নওগাঁ) : | প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
সাপাহারে মাদ্রাসা সুপারের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার বলদিয়াঘাট মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ‘নিরাপত্তাকর্মী’ পদে  নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সুপারের অপসারণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ওই মাদ্রাসার সামনে অনুষ্ঠিত  মানববন্ধনে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা নিয়োগের নামে প্রতারণা ও অর্থ লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে ওই মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাও: তোজাম্মেল হক তাকে নিরাপত্তাকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পর্যায় ক্রমে প্রায়  ১২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তৎকালীন সময়ে তার টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্তির যাবতীয় খরচ চালানো হয়। গত ২০২২ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পরে (২৩/১০/২০২৫ তারিখের দৈনিক মানবজমিন) পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে ঘটনার চিত্র সুপারের চরিত্র পাল্টে যায়। মিজানুর রহমানের দাবি, বর্তমান নিয়োগ বোর্ডের আগে সুপার তার কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি এই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বাদ দিয়ে মাও: তোজাম্মেল হক ওই গ্রামের সুজন নামের অন্য এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে। এ বিষয়ে মিজানুর রহমানের বাবা জানান, “২০১৯ সালে আবাদি জমি বিক্রি করে ছেলের চাকরির জন্য সুপারকে টাকা দিয়েছিলাম। এখন অন্য কারো কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে আমার ছেলেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল ও দুর্নীতিবাজ সুপারের অপসারণ  চাই।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট  মাও: তোজাম্মেল হক ১২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি সবাই জানেন এবং সেই টাকা মাদরসার একাউন্টে ক্যাশ করা আছে। তবে বর্তমান নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি, বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।" এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ১৮ জানুয়ারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এছাড়া তিনি জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর ও অনুলিপি পাঠিয়ছেন। সাপাহার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামসুল কবির জানান গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় নম্বার বেশি পাওয়ায় আমাদের ৫ সদস্যের নিয়োগ বোর্ড একজন প্রার্থীর সুপারিশ করেছেন। এখন ম্যানেজিং কমিটি পছন্দমত প্রার্থীকে নিয়োগের বিষয়টি চুরান্ত করবেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগটি এখনো তিনি হাতে পাননি। এমতাবস্থায় নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির এমন অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে